দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষায় দুদক বিল পাস
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৩
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি বলেছেন, পদ্মা সেতু, হলমার্ক কেলেংকারিসহ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষার জন্যই সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিল সংসদে পাস করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে এ ধরনের বিল পাস করায় জনগণের বুঝতে বাকি নেই যে এই সরকার দুর্নীতিবাজদের রক্ষক। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।
ব্যারিস্টার খোকন অবিলম্বে সংশোধিত এই বিল বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, বিলে বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের বিরুদ্ধে দুদক কোন মামলা করতে পারবে না। এর ফলে সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের লংঘন হয়েছে। কারণ ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী হবেন। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই বিল পাস করে দুদককে অকার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে গতকালও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম হরতালের সমর্থনে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সমাবেশ হতে আইনজীবীরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
দুদক আইন সংশোধনে সিপিবির নিন্দা
দুদক আইন সংশোধন করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ। তারা অবিলম্বে আইনটি বাতিল করে দুদককে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।
গতকাল এক বিবৃতিতে সিপিবি’র নেতারা বলেছেন, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে দুদককে অকার্যকর করে রাখার যে প্রক্রিয়া চলছিল, সেই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে দুদক আইনের সংশোধনী করা হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে দুদকের ওপর সরকারের সরাসির হস্তক্ষেপ করার বিষয়টি আইনী বৈধতা পাবে। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে তড়িঘড়ি করে জনগণের সাথে প্রতারণাপূর্ণ ও গণবিরোধী এ সংশোধনী আইন করার মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির পক্ষে তার অবস্থান ঘোষণা করলো।