আজহারের বিরুদ্ধে ৬ অভিযোগ গঠন, ৫ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ টাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠন করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করে আসামিপক্ষকে তাদের সাক্ষীর তালিকা ও মামলা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। যদিও এটিএম আজহার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদেশে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগ অনুসারে আজহারুল ইসলাম একাত্তরে জামায়াতের তত্কালীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রসংঘের রংপুর জেলা সভাপতি ছিলেন। তিনি বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে আলবদর বাহিনীরও কমান্ডার ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা ৬টি অভিযোগের মধ্যে রংপুর অঞ্চলে ১২২৫ ব্যক্তিকে গণহত্যা, ৫ জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া শত শত বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ধর্ষণের ঘটনায় তার জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে এটিএম আজহার বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ৪১ বছরে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। ২০১০ সালে আটকের পর আমার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা হয়। প্রতিটি মামলা থেকে আমি মুক্তি পাওয়ার পর এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এ অভিযোগের সঙ্গে আমার সামান্যতম সম্পর্ক নেই। অভিযোগ গঠনের আগে এটিএম আজহারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাখার কারণ উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল বলে, আদালতকে সম্মান দেখানো সকল নাগরিকের দায়িত্ব। কিন্তু এজলাসে যখন বিচারকেরা আসন গ্রহণ করেন এবং আসন ছেড়ে চলে যান, তখন এটিএম আজহার আসামির কাঠগড়ায় বসে থাকেন। তিনি দাঁড়িয়ে বিচারকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন না। এ জন্য আগের দিন মামলার কার্যক্রম চলার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, এটিএম আজহার এ বিষয়টি নাও জানতে পারেন। কিন্তু তার আইনজীবীদের উচিত ছিলো আদালতের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তাকে অবহিত করা। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, কেন এটিএম আজহারকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিলো তা আমরা জানিনা, এখন জেনেছি। আগামীতে তিনি এ ধরনের ভুল করবেন না। তখন ট্রাইব্যুনাল বলে, আজকে তিনি দাঁড়িয়ে থাকবেন। আগামী তারিখ থেকে তাকে বসার জন্য চেয়ার দেয়া হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয়। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপক্ষ এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনে। গত ২৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।