ফেরি খাতে কমেছে রাজস্ব আয় বেকার শ্রমিক, হকাররা

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের একের পর এক হরতাল কর্মসূচিতে প্রতিদিন ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হারাতে হয় বিআইডব্লিউটিসির মাওয়া ফেরি সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে। ১৭টি ফেরির জায়গায় মাত্র ১০টি ফেরিঘাটে পারাপারের জন্য থাকলেও গাড়ির অভাবে অলস বসে থাকতে হয় সেগুলোকে। বেকার হয়ে পড়ে মাওয়া ঘাটের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ও ক্ষুদে ব্যবসায়ী হকার। অন্যদিকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে ঘাট ইজারাদারদের। লঞ্চ মালিকরাও হিমশিম খান কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে। আজ হরতাল না থাকলেও আবার সেই বিভীষিকাময় দিনটির আশংকায় তটস্থ রয়েছেন ঘাট সংশ্লিষ্ট সকলেই। চলতি মাসে ১৮ দলের ডাকা ৬০ ঘণ্টা ও পরে ৮৪ ঘণ্টা মোট ৭ দিনের হরতালে বেকার হয়ে পড়েন ২০ হাজার শ্রমিক যাদের প্রতিদিনের রোজগারের উপর নির্ভর করে আছে তাদের পরিবারের ১ লক্ষ ২০ হাজার সদস্য। অসহায় মানুষগুলো হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বিকল্প পন্থায় বিরোধীদলকে দাবি আদায়ের অনুরোধ করে যাচ্ছেন। হরতালের কারণে পাল্টে গেছে মাওয়া ফেরিঘাটের চিত্র। সারাক্ষণ সরগরম মাওয়া ঘাট হরতালে ছিল একেবারে ফাঁকা। যানবাহন না থাকায় ঘাটে ফেরিগুলো অলস দাঁড়িয়ে। প্রতিদিন যেখানে যাত্রীবোঝাই যানবাহনের ভিড়ে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে মাওয়া ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকে গত কয়েকদিন প্রায় অলস বসে থাকতে হয়েছে। যানবাহন কম থাকায় ৭টি ফেরি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি মাওয়া অফিসের এজিএম আশিকুজ্জামান জানান, প্রতিদিন এখানে গড়ে ২ হাজার গাড়ি পার হলেও হরতালে মাত্র ২ থেকে ৩ শ’ গাড়ি পারাপার হয়। এ সব গাড়ি থেকে প্রতিদিন টোল আদায়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় হতো ২০-২২ লাখ টাকা। আর হরতালের কারণে সেই রাজস্ব আয় নেমে আসে মাত্র ২ লাখ টাকায়। জাতীয় রাজস্ব আয়ের উপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।