নভেম্বরেই আঘাত হেনেছিল সিডর
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩৭
১৫ নভেম্বর ২০০৭ তারিখ রাতে সিডর আঘাত হানে উপকূলীয় জেলাসমূহে। সন্ধ্যার পরপরই ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবনের দুবলার চরে আঘাত হানতে থাকে। রাত ৮টার মধ্যে বরিশাল, বরগুনা, পাথরঘাটা প্রভৃতি শহর পরিণত হয় মৃত নগরীতে। বাতাসের তীব্রতায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সবকিছু। দুর্গম চরাঞ্চলের গবাদিপশুগুলো ছুটোছুটি করতে করতে শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করে মৃত্যুর কাছে। সেদিনের কথা মনে হলে আজও শিউরে উঠি আমরা।
আমরা কি কেউ খবর রেখেছি সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো কেমন আছে? তারা ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছে কিনা? সিডরের মতো প্রলয়ংকরী ঝড় হয়তো আবারও আসতে পারে। এ অবস্থায় আমাদের করণীয় হচ্ছে— ১. প্রশস্ত উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনভূমি গড়ে তোলা, ২. সমগ্র উপকূলব্যাপী ২-৩ কিলোমিটার প্রশস্ত সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, ৩. নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে বনায়নের মাধ্যমে সবুজ প্রাচীর সৃষ্টি, ৪. উপকূলীয় বাঁধের উভয় পাশে বৃক্ষরোপণ ৫. বসতবাড়ির চারপাশে প্রচুর বৃক্ষরোপণ, ৬. প্রতিষ্ঠান বনায়ন ও ৭. সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তা বনায়ন। সামুদ্রিক ঝড়ের কবল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষার জন্য প্রথমে প্রয়োজন ওই অঞ্চলের মানুষের সতর্কতা অবলম্বন এবং তারপরই দরকার ব্যাপক বনায়ন। পৃথিবী যতদিন থাকবে—ঝড় জলোচ্ছ্বাস আসবেই। কিন্তু আমাদের পূর্ব সতর্কতা আর প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো যাবে।
আ. লতিফ খসরু, কাউখালী, পিরোজপুর