দৃষ্টি এবার মুক্তিযোদ্ধার উপর

পেশাদার ফুটবল লিগ শিরোপা জয়ের জন্য যেসব দল লড়াই করবে তাদের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। কোনো দল সহজেই পার পাবে না। মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে টপকে যেতে হলে কাঠখড় পোড়াতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। গতকাল বিকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খেলোয়াড় রেজিষ্ট্রেশন করিয়েছে। ২৩ জন দেশি এবং ৩ জন বিদেশি ফুটবলারের নাম জমা দিয়েছে। আরো কয়েকজন বিদেশি ফুটবলার আসবেন দলে। মানিকের কথা- আমরা তিন নম্বর স্থানটি চাই। লিগের গত আসরে পঞ্চম স্থানের দল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক প্রত্যয় নিয়ে নেমেছে। আর তাতে দেখা গেছে, বড় কয়েকটি দলের সাইড বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের জায়গা করে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা। দলটি মনে করে, যারা অন্য দলের সাইড বেঞ্চে ছিলেন তারা এখানে জ্বলে উঠবেন। সেই প্রত্যাশা সামনে রেখে খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে কোচ মানিক বললেন, ওদের জন্য একটা সুযোগ। নিজেদের চিনিয়ে দেয়ার। যারা পুনরায় মাঠের তারকা হয়ে উঠতে পারেন। নিজের জায়গাটা দখলে নিতে পারেন।’ খেলোয়াড়দের মধ্যে জেদ আনার জন্যই এমন কথা বলছিলেন এই কোচ মানিক। অনেক দিন মাঠে নেই আবাহনীর স্ট্রাইকার এনামুল হক। এক মৌসুম ইনজুরি এবং এক বছর বেঞ্চে, দুই বছর আবাহনীতে কাটিয়ে এবার তিনি মুক্তিযোদ্ধায়। এনামুল বলছিলেন আবাহনী থেকে বের হবো কিনা ভাবছিলাম। মানিক ভাই নিয়ে এসেছেন। এখানে কঠিন অনুশীলন করাচ্ছেন মানিক ভাই। টাইট সিডিউল, আমাদের জন্য ভালো। তাতে পারফরম্যান্স ভালো হয়।’ আবাহনীর মহিউদ্দিন ইবনুল সিরাজী, চৌমিন রাখাইন, মোহামেডানের রফিকুর রহমান মামুন, সাইদুল হক, আনিসুল আলম সুইট, ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, ইকবাল হোসেন, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের খালেদ, শেখ রাসেলের গোলাম মোস্তফা তোয়ান, উত্তম বণিক, বিজেএমসির সফিকুল ইসলাম বিপুল, নাইমুর রহমান সাহেদ ছাড়াও দলের জুনিয়র ফুটবলার রয়েছেন ইব্রাহিম, নূরুল আলম এবং পলাশ। বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন নাইজেরিয়ান দুই ভাই এলিটা বেঞ্জামিন ও এলিটা কিংসলে এবং স্বদেশি আগবুলু ইনালিগাভিউ। সাবেক তারকা স্টপারব্যাক মানিক একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিজ্ঞ এবং তারুণ্যের মিশেলে মুক্তিযোদ্ধা ফুটবল দল গড়েন। আর এর জন্য সব কৃতিত্ব ঢেলে দিলেন ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে। কারণ তিনি আজকের দলটা গড়ার পেছনের কারিগর। ৯৪ সালে ফুটবলের পুল প্রথা ভেঙে মুক্তিযোদ্ধাকে নতুন করে গড়ার পেছনের কারিগর ছিলেন এই সংগঠক নজরুল ইসলাম। তরুণদের নিয়ে কোচ মানিক বলেন, মামুন, জিতু, ইকবাল, বিপুল, রনি, ইব্রাহিমরা উদগ্রীব হয়ে আছে। তারা যদি ভালো পারফরম্যান্স তুলে ধরতে পারে। তাহলে আমি বিশ্বাস করি- জাতীয় দলে তারা ডাক পাবে। দলে যোগ দেয়া তারকা ফুটবলার রয়েছেন মোহামেডানের মারুফ আহমেদ এবং বিজেএমসি ছেড়ে আসা গোলকিপার আমিনুল হক। মারুফ বললেন, ফুটবল খেলাটা অনেক কষ্টের কাজ। অনেক পারিশ্রম করতে হয় আমাদেরকে। হাড়ভাঙা খাটুনির পর পারিশ্রমিক যদি সময় মতো না পাওয়া যায় তাহলে কোনো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সঠিক খেলাটা আদায় করাটাও কঠিন হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা কথা মতো পারিশ্রমিক দিয়েছে। মারুফ না বললেও তিনি ১৮ লাখ টাকার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নিয়ে মুক্তিযোদ্ধায় যোগ দিয়েছেন। ১৫ লাখ টাকায় মানিকের হাত ধরে আমিনুল মুক্তিযোদ্ধায় এসেছেন। আমিনুল বলছিলেন মুক্তিযোদ্ধায় থাকার সময় যে পারফরম্যান্স করেছি। এবার তার চেয়েও ভালো করে দেখাবো। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় মুক্তিযোদ্ধায় কেটেছে আমিনুলের। মাঝে চলে গিয়ে আবার ফিরেছেন। দলের ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার সঙ্গীত প্রিয় মানুষ। শান্তি নিকেতন থেকে ডিগ্রি নিয়েছেন সেই সত্তর দশকে। সাংবাদিকরা আমিনুলের ফিরে আসা প্রসঙ্গে ম্যানেজার আব্দুস সাত্তারের কাছে জানতে তিনি গানের সুরে বললেন, সেই তো আবার কাছে এলে/ এতো দিন দূরে থেকে কি সুখ তুমি পেলে। মুক্তিযোদ্ধার পুরনো খেলোয়াড়রা হলেন গোলকিপার রাসেল মাহমুদ লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান সৈকত, শ্যামল আহমেদ রনি, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, মোহাম্মদ বিপ্লব। নতুন যোগ দিলেন যারা মহিউদ্দিন ইবনুল সিরাজী, চৌমিন রাখাইন (আবাহনী), রফিকুর রহমান মামুন, সাইদুল হক, মারুফ আহমেদ, আনিসুল আলম সুইট, ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, ইকবাল হোসেন (মোহামেডান), মোহাম্মদ খালেদ (আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ), গোলকিপার গোলাম মোস্তফা তোয়ান, উত্তম বণিক (শেখ রাসেল), গোলকিপার আমিনুল হক, সফিকুল ইসলাম বিপুল, নাইমুর রহমান সাহেদ (বিজেএমসি) ছাড়াও দলের জুনিয়র ফুটবলার রয়েছেন ইব্রাহিম, নূরুল আলম, এবং পলাশ। দলের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য লে. কর্নেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক, কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক, সহকারি কোচ আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু, গোলকিপার কোচ পনিরুজ্জামান পনির, ফিজিও আতিকুল ইসলাম আতিক।