অস্থিরতা এড়াতে চালের মজুদ বাড়ানো হচ্ছে

ভোটের আগে চালের বাজারে অস্থিরতা এড়াতে মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমেও বাড়ানো হবে মজুদ। সেই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চলতি মৌসুমে আমনের সংগ্রহ মূল্যও বাড়ানো হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী বছরে চাল নিয়ে কোনরকম ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না সরকার। চাল নিয়ে কেউ যেন রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য মজুদের উপর জোর দেয়া হয়েছে। যাতে কোন কারণে দাম বাড়লেও খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে (ওএমএস) চাল বিক্রি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। চাল নিয়ে চালবাজি হতে পারে এমন আশংকা থেকেই সরকারের এ উদ্যোগ। মজুদের ওপর জোর দেয়া ছাড়াও কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পায় তা নিশ্চিত করতে আমনের সংগ্রহ মূল্যও বাড়ানো হচ্ছে। কারণ, গত দুই/তিন মৌসুমে কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক হতাশ। সেই হতাশা দূর করতেই এবার সংগ্রহ মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, গত আমন মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ করা হলেও এবার চার টাকা বাড়িয়ে সংগ্রহ মূল্য ৩০ টাকা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ টন। আগামী সপ্তাহের শুরুতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় দাম ও সংগ্রহের পরিমাণ চূড়ান্ত করা হবে। চলতি আমন মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উত্পাদন ব্যয় পড়ছে ১৭ টাকা ২ পয়সা। এই হিসেবে প্রতি কেজি চালে উত্পাদনে খরচ হবে ২৫ টাকা ৪২ পয়সা। ফলে সংগ্রহ মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হলে কৃষক লাভবান হবে। তবে সংগ্রহ অভিযান শুরুর ওপর এর সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে। কারণ, অভিযান শুরু করতে দেরি হলে ধান, চাল মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যায়। তখন আর কৃষকের লাভ থাকে না। এ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এফপিএমসি’র সভা হবে। সভায় সংগ্রহ মূল্য ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি সংগ্রহ অভিযানের সময়ও ঠিক করা হবে। কৃষকের যাতে উপকার হয়, এসব কিছু বিবেচনা করেই সংগ্রহের সময় ঠিক করা হবে। এদিকে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহের পাশাপাশি মজুদ বাড়াতে সরকার বিদেশ থেকেও খাদ্য আমদানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত দুই বছরে দেশে উল্লেখ করার মতো চাল আমদানি করা হয়নি। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে চাল আমদানির জন্য এলসি খোলার পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে। গত বছরের জুলাই আগস্টে চাল আমদানির জন্য ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের এ সময়ে চাল আমদানির জন্য তিন কোটি ৮৮ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের এলসি’র নিষ্পত্তি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, খাদ্যশস্যের মজুদ বাড়াতে আমদানির এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে আমরা গম আমদানির ওপর বেশি জোর দিচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে গুদামে প্রায় ১১ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। তবে গত বছর এই সময়ে মজুদ ছিল ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য।