চলন্ত ট্রাকে পেট্রোল বোমা পণ্যবাহী গাড়িতে আগুন
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪২
যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, মিছিল, সড়ক ও রেলপথ অবরোধের চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা টানা ৮৪ ঘণ্টার হরতাল শেষ হয়েছে। হরতাল চলাকালে রাজধানীতে অসংখ্য ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে এক নারী আহত হয়েছেন। একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পিকেটিংকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে দুই জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
হরতাল চলাকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১০টি পণ্যবাহী গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পিকেটাররা। গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি চলন্ত ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে চালকসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া মুরাদনগর, রামগতিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে সাবেক এমপি, পুলিশ, সাংবাদিকসহ কয়েকশ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হাটহাজারী, উখিয়া, শরণখোলাসহ আরো কয়েকটি থানায় সহিংসতায় জড়িত অভিযোগে বিরোধী জোটের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে গত রবিবার থেকে এই হরতাল কর্মসূচি পালন করে ১৮ দল। এর আগে গত ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর এবং ৪ থেকে ৬ নভেম্বর বিরোধী দল টানা ৬০ ঘণ্টা করে দুই দফা হরতাল পালন করে। হরতাল চলাকালে গতকাল দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির তিন সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী, রাশেদা বেগম ও শাম্মী আক্তারকে আটক করে পুলিশ। তবে পরে রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে এনে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের উপ-কমিশনার আশরাফউজ্জামান বলেন, ওই তিন সংসদ সদস্যকে আটক করা হয়নি। তারা যাতে সেখানে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে সকাল ১০টায় হরতালের সমর্থনে সংসদ ভবন চত্বরে বিএনপির সংসদ সদস্যরা মিছিল বের করেন। আসিফা আশরাফি পাপিয়ার নেতৃত্বে মিছিলে ওই তিন এমপি ছাড়াও অংশ নেন রেহেনা আক্তার রানু, নাজিম উদ্দিন আলম, লায়ন হারুনুর রশিদ প্রমুখ।
হরতাল চলাকালে সকাল ১০টার দিকে চকবাজারে খাজে দেওয়ান গলিতে ককটেলের বিস্ফোরণে সহিরা (৫৫) নামে এক নারী আহত হয়েছেন। এতে তার ডান হাত ঝলসে যায়। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অদূরে, ওয়ারী থানার সামনে,শাহজাহানপুরে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের বাড়ির পাশে ও হাতিরপুলে ইস্টার্ন প্লাজা বিপণিবিতানের সামনে ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডে ৬ ককটেলসহ তিন শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। প্রায় একই সময়ে শ্যামপুরে স্থানীয় যুবদলের কয়েক জন কর্মী রেললাইন অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ৬ জনকে আটক করে। সকাল ৮টার দিকে পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের সামনে ঝটিকা মিছল বের করে শিবির কর্মীরা। মিছিল থেকে পরপর ৬টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এদিকে হরতালের শেষ মুহূর্তে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কমলাপুর রেল স্টেশনের সামনে এস আলম পরিবহনের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী কোচে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে।
মুরাদনগর (কুমিল্লা): উপজেলা সদরে ১৮ দলীয় জোটের মিছিলে হামলা চালিয়েছে পুলিশ ও সরকার সমর্থকরা। এতে জোটের ২ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ ৫০ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আলম জানান, জামায়াত শিবির পুলিশের উপর হামলা করলে ৬ পুলিশ আহত হন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রাম: বিরোধী দলের হরতালের কারণে চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌপথে খোলা পণ্য নিয়ে যাওয়া প্রায় ৩০০টি লাইটারেজ জাহাজ ঢাকা, খুলনা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের নানা স্থানে গত দুই সপ্তাহ ধরে আটকা পড়ে আছে। চলতি সপ্তাহের টানা চারদিনসহ মোট ১০ দিনের হরতালে জাহাজ থেকে পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় জাহাজগুলো চট্টগ্রামের সদরঘাট জেটিতে ফিরে আসতে পারছে না। ফলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত খাদ্যশস্যসহ খোলা পণ্য ও বিভিন্ন শিল্পের খোলা কাঁচামাল চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিবহনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে হরতালে নগরীর পন্থিছিলা, দক্ষিণ বাইপাস, ফকিরহাট, নুনাছড়া কাশেম জুট মিল এলাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো স্থানে পিকেটাররা মহাসড়ক অবরোধ করে। পুলিশ ১৮ দলীয় জোটের ২০ কর্মীকে আটক করেছে।
রাজশাহী: নগরীর বাইপাস মোড়ে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিন জন এবং নগরীর কাঁটাখালি থেকে আরো দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া কাঁটাখালি পৌরসভা ভবনের সামনে শিবিরকর্মীরা খড় বোঝাই একটি ট্রাক আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): উপজেলায় ১০টি পণ্যবাহী গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। এসময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে পিকেটারদের সাথে সংঘর্ষে ৩ ট্রাক চালকসহ ৮ জন আহত হয়। স্থানীয় ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ দোলন আচার্য জানান, হরতাল সমর্থকরা উপজেলার বাড়বকুণ্ড থেকে পন্থিছিলা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ২টি কাভার্ড ভ্যান এবং ট্রাক-পিকআপসহ মোট ৯টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।
সিলেট: নগরীতে সকাল ১১টার কিছুপর জিন্দাবাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ হলে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এসময় ছাত্রদল মিছিল করছিল।
রাঙ্গুনিয়া: জামায়াতের পিকেটাররা কুপিয়ে এবং মারধর করে উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামশুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুলকে আহত করেছে। তার দুই আওয়ামী লীগ নেতার মোটর সাইকেল দুটিও পুড়িয়ে দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিকেলে আলম শাহপাড়া মাদ্রাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া পিকেটাররা চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা লিচুবাগানে ভোরে একটি সিএনজি অটোরিক্সা পুড়িয়ে দিয়েছে।
চকরিয়া (কক্সবাজার):মঙ্গলবার রাতে চকরিয়ায় মাছ ভর্তি একটি ম্যাজিক গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে গাড়ি চালক মো. আলী গুরুতর আহত হয়েছেন। পৌরশহরের মাতামুহুরী সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রংপুর: আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল, লাঠিচার্জ, টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ, মহাসড়ক অবরোধের মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হয়েছে হরতালের শেষ দিন। এসব ঘটনায় ৩ পুলিশসহ ৪০ জন আহত হয়েছে।
এদিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত যুবদল ও ছাত্রদলের ৪ কর্মীর উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাতে নগরীর সিটি বাজার ও পায়রা চত্বর এলাকা থেকে যুবদল নেতা মাহবুব, ছাত্রদল নেতা আসিফ, সানি ও ফরহাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের ওপর প্রচণ্ড নির্যাতন চালানো হয়। যুবদল নেতা মাহবুবের দাঁড়ি আগুন দিয়ে পুড়য়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় যুবদল।
সাভার:নির্মাণাধীন একটি বাড়ীর ছাত্রাবাস থেকে ৯টি তাজা ককটেলসহ ৩ জনকে আটক করেছে সাভার থানা পুলিশ। এদের মধ্যে ২ জন শিবিরের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। দুপুরে সাভার পৌর এলাকার ডগরমোড়া মহল্লা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো ইকবাল হোসেন, তৈয়ব আলী এবং সাগর। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে।
বাগেরহাট: শরণখোলা উপজেলা বাসস্ট্যান্ড ও রায়েন্দা বাজারে মঙ্গলবার বিকেল ও সন্ধ্যায় দুই দফা হামলা চালিয়ে ১১টি বাস ও অন্তত দশটি দোকান ভাংচুর এবং বাজারের মালামাল লুট করেছে হরতাল সমর্থকরা। এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খোন্তাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দন খানের উপর হামলা করে এবং তার মটর সাইকেলটি ভাংচুর করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ বিএনপির দশ কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে।
গাজীপুর: জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাসেম খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ জেলা শহরের শিববাড়ি এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
ধুনট (বগুড়া) : উপজেলা সদরে ১৮ দলের সমাবেশে আওয়ামী লীগের হামলায় ধুনট-শেরপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ও স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
এসময় পুলিশ ফাঁকা রাবার বুলেট ছোঁড়ে। হামলার কারণে সমাবেশ ভন্ডুল হয়ে যায়। হামলার সময় ছবি তুলতে গিয়ে ধুনট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের উপজেলা সংবাদদাতা এনামুল বারী বাদশা আহত হয়েছেন।
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) : চলন্ত ট্রাকে পিকেটাররা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে ড্রাইভারসহ ৩ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বাঘেরপাড়া নামক স্থানে।
আহতরা হলেন, ড্রাইভার সাইদুল (৩৫), হেলপার ইসরাফিল (১৯) ও প্রবাসী বাবুল বেপারী (৩০) এসময় ট্রাক যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ ২১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। অভিযোগে জানা গেছে, আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফরিদপুর (পাবনা) :হরতাল বিরোধী ও সমর্থনকারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় ওসি, সাংবাদিকসহ ৫ জন আহত হয়েছে। চা বিক্রেতা গৌতমের মাথায় ও পিঠে ছররা গুলি লেগেছে। আহত সাংবাদিক সাহিন ও চা বিক্রেতা গৌতমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
কুমিল্লা: হরতালের শেষ দিনে কুমিল্লায় জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষে গতকাল বুধবার সকালে ৪ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছে। পুলিশ শুভ নামে এক জামায়াত কর্মীকে আটক করেন। বুড়িচং উপজেলায় শহীদপুরে এই সংঘর্ষ হয়।
নারায়ণগঞ্জ: পিকেটার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির মধ্য দিয়ে জেলায় হরতাল পালিত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে অন্তত ৫ জন। পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪টি ককটেল উদ্ধার করেছে। এদিকে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৬ বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
রামগতি :উপজেলা সদর আলেকজান্ডার বাজারে দুপুরে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। এসময় একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।
উপজেলা বিএনপি দাবি করেছে, এ সময় পুলিশ নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুঁড়ে। এতে বিএনপি কর্মী আবদুল কদ্দুছ, যুবদল কর্মী বাহারসহ তাদের ১০-১২জন কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। ওই সময় রামগতি পৌরসভার প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরও গুলির স্প্লিন্টারবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদেরকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিত্সা দেয়া হয়।
শিবগঞ্জ: উপজেলার রাণীহাটি সিনেমা হলের পাশে একটি মার্কেট থেকে ২৭টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়।
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা): হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন দুষ্কৃতিকারীদের নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে পৌরসভা বিএনপি সভাপতি নূরুল আমিন জসিমসহ ১০জন আহত হয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা): হরতাল চলাকালে সুন্দরগঞ্জ-বামনডাঙ্গা সড়কের খানাবাড়ি নামক স্থানে সকালে কর্তব্যরত সাংবাদিক শহিদার রহমান জাহাঙ্গীর ও রফিকুল ইসলামের মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। এছাড়া সাংবাদিক ইমদাদুল হক ও রেজাউল ইসলামকে পিকেটাররা লাঞ্ছিত করেছে।
দিনাজপুর: শহরে জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক ও এপিপি এডভোকেট মেহেরুল ইসলামের চেম্বারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। এছাড়া হরতালকারীরা ৫টি যানবাহন ভাংচুর করেছে। পুলিশ ৫ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
বাকৃবি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এরশাদুল হকসহ ৩ নেতা-কর্মীকে মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পলাশ (নরসিংদী):ভোরে হরতালকারীরা পলাশের ঘোড়াশাল সোহাগ সিনেমা হলের সামনে প্রাণ কোম্পানির একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। এতে গাড়িটির সামনের অংশ পুড়ে যায়।
সাঘাটা (গাইবান্ধা): পিকেটাররা স্থানীয় বাজারে আ’লীগ নেতার বিলবোর্ড ভাংচুর করে। এছাড়া বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে লালমনিরহাটগামী পদ্মারাগ এক্সপ্রেস ট্রেন অবরোধ করে রাখে।
ময়মনসিংহ: হরতালের শেষদিনে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ছাড়া বড় ধরনের কোন অঘটন ঘটেনি। নাশকতার অভিযোগে জেলায় ১৪ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।
সাতক্ষীরা: সকালে ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির কর্মীরা ৮টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। হরতালে বন্ধ রয়েছে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।