মজুরি ইস্যুতে গার্মেন্টস মালিকরা আতংকে

গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ইস্যুতে দিন দিন অস্থিরতা ব্যাপক হচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর মজুরি বোর্ড ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাব মালিক পক্ষ প্রত্যাখ্যানের পর থেকেই শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর ও আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। কারখানা বন্ধ করে দিয়েও রেহাই পাচ্ছে না মালিকরা। অন্যদিকে বাড়তি মজুরির চাপ সামলাতে না পারার আশংকায় অনেক উদ্যোক্তা সহজ শর্তে ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছেন। তারা এ আবেদন সরাসরি না করে তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র কাছে জমা দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০ গার্মেন্টস উদ্যোক্তা এই আবেদন জানিয়েছেন বলে বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে। বিজিএমই-এর সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেকে ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যেতে চাচ্ছে। এ মুহূর্তে আমাদের একটি এক্সিট পলিসি (প্রস্থান নীতিমালা) দেন। শ্রমিকদের কোন টার্মিনেশন বেনিফিট (চাকরিচ্যুতির বিদ্যমান সুযোগ) না দিয়ে শুধুমাত্র বকেয়া বেতন দিয়ে চলে যাবো। ব্যাংকের দায় দেনাও নিতে চাই না। গতকাল বিজিএমইএতে এক অনুষ্ঠানে আতিকুল ইসলাম সরকারের কাছে আবারো এক্সিট পলিসি চেয়েছেন। তিনি বলেন, এই খাতের উদ্যোক্তারা এখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার, রপ্তানিতে অতিমাত্রায় উেস কর, বার বার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় রপ্তানিকারকরা কঠিন সময় পার করছে। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গার্বেন ডি জং সহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মিকাইল শিপার ইত্তেফাককে বলেন, এভাবে যে কেউ চাইলেই সব দায়-দায়িত্ব সরকারের কাঁধে রেখে যেতে পারেন না। শ্রম আইনে বিধান আছে যে কেউ কারখানা চালাতে অক্ষম হলে ৩ মাস ১৪ দিনের মজুরি দিয়ে কারখানা বন্ধ করতে পারেন। কিন্তু দায়িত্বহীনভাবে তো যাওয়া যাবে না। তাদের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা শ্রমিক বা সরকার কেন নেবে? পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে এই খাতে ৭০ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি গার্মেন্ট কারখানা। ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে এসব কারখানার বেশিরভাগই টিকে থাকতে পারবে না। এসব কারখানার বেশিরভাগই ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭০টি কারখানা রুগ্ন শিল্প হিসেবে এক্সিট সুবিধা নিয়েছে। কারখানা মালিকদের আশংকা নতুন মজুরি বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা শুরু হলে শ্রমিকদের টার্মিনেশন সুবিধা অনেক বেড়ে যাবে। ফলে তারা এটি কার্যকরের আগেই ব্যবসা থেকে সহজে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজছেন। তারা মনে করছেন, এসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা মজুরি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে বিশৃঙ্খলা ও শ্রম অসন্তোষ বাড়বে। এটি তীব্র হয়ে গোটা গার্মেন্টস খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এই ঝুঁকি এড়াতে তারা আগেভাগেই পদক্ষেপ চাচ্ছেন।