রসূলুল্লাহর (স.)
রেখে যাওয়া
কুরআন ও
আহলে বায়ত
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:১৭
আহলে বায়ত অর্থ গৃহবাসী বা গৃহপরিবার। এখানে বায়ত বলতে রসূলুল্লাহর (স.) বায়তকে বুঝায়। সুতরাং আহলে বায়ত হচ্ছেন রসূলুল্লাহর (স.) গৃহবাসী ও আত্মীয়পরিজন। মুসলিম মাত্রই আহলে বায়তের (আ.) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন। তাঁদেরকে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসেন। এ হচ্ছে যে-কোনো মুমিনের ঈমানেরও দাবি। কিন্তু সে-শ্রদ্ধা ভালোবাসা হওয়া চাই কুরআন ও সাহীহ সুন্নাহ’র ভিত্তিতে। গতানুগতিক প্রথা-প্রচলনের ভিত্তিতে নয়। শী‘আ-মতে আহলে বায়ত কেবল পাঁচজনে সীমিত। যথা : মুহাম্মাদ (স.), ‘আলী (রা.), ফাতিমা (রা.), হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.)। এ পাঁচজনই হচ্ছেন পাকপাঞ্জাতন। আমাদের দেশের সাধারণ আলিমসহ অনেক সুন্নী মুসলিমেরও ধারণা, আহলে বায়ত কেবল উপরিউক্ত পাঁচজন ও তাঁদের বংশধরের মধ্যে সীমাবদ্ধ; এর বাইরে নয়। এর ফলে পাকপাঞ্জাতন-এর বাইরে রসূলুল্লাহর (স.) গৃহবাসী ও আত্মীয়পরিজনের অন্য যে-সব সদস্য রয়েছেন তাঁরা বা তাঁদের বংশধর অনেকের নিকট আহলে বায়ত বলে গণ্য হন ও যথাপ্রাপ্য মর্যাদা কম পান। আবার পাকপাঞ্জাতনকে তাঁদের প্রাপ্য মর্যদার চেয়ে ক্ষেত্রবিশেষ অস্বাভাবিক বেশি মর্যাদা প্রদান করা হয়। বস্তুত কুরআন ও সাহীহ সুন্নাহের দৃষ্টিতে এ-পাঁচজন যে আহলে বায়ত — এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর বাইরেও রয়েছেন আহলে বায়ত-এর অনেক সদস্য। বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, ‘বিশুদ্ধ মতে নবী কারীম (স.)-এর আহলে-বায়ত (স.) দ্বারা অভীষ্ট উদ্দেশ্য হচ্ছেন তাঁরা, যাদের জন্য যাকাত-সাদাকা গ্রহণ করা শারী‘আয় হারাম বিঘোষিত; যেমন : রাসূলুল¬াহর (স.) সকল স্ত্রী, সকল সন্তান-সন্তুতি এবং আব্দুল মুত্তালিব-বংশের প্রত্যেক মুসলিম নর ও মুসলিম নারী। তাঁরা বানূ হাশিম ইবন ‘আবদ মানাফ।’ (ইবন হাযম, জামহারাতু আনসাবিল আরাব, ১খ., পৃ. ৩; ইবন হাজার, ফাতহুল বারী, ১১খ., পৃ. ১৬০, ১৭১)। রসূলুল্লাহর (স.) উর্দ্ধতন পুরুষ ‘হাশিম’-এর পুত্র শাইবা পরিচিত হন ‘আব্দুল মুত্তালিব নামে । এই আব্দুল মুত্তালিবের বংশ ব্যতীত হাশিমের অন্য কোনো বংশধারা অবশিষ্ট থাকেননি। এ-কারণে ‘আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর বানূ হাশিম বা হাশিমিয়্যা নামে খ্যাত। তাঁদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছেন তাঁরা সকলেই আহলে বায়ত-এর অন্তর্গত।
— লেখক :অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়