বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আগুন লাগায় নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছে বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি)’র ডিলারদের কাছে। পহেলা রমজান থেকে বরিশাল বিভাগের টিসিবির ৫৯ জন ডিলার রোটেশন প্রথায় খোলা বাজারে সয়াবিন তেল, ছোলা বুট, চিনি, মশুর ডাল ও খেজুর ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করছে। রমজানের শুরু থেকেই অস্থিতিশীল বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে বেঁচে থাকার খাদ্য পণ্য হিসেবে পরিচিত এসব দ্রব্যের দাম। বাধ্য হয়ে নিম্ন ও নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকজন ছুটছেন টিসিবির ডিলারের কাছে। লোকলজ্জা ফেলে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পেতে কাকডাকা ভোরেই লাইন ধরছে নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে এসব পণ্য নিয়ে ঘরে ফিরছেন। টিসিবির সয়াবিন তেলের লিটার ৮৫ টাকা, প্রতিকেজি ছোলা ৬০ টাকা, মশুর ডাল ৪৪ টাকা, চিনি ৪৭ টাকা ও খেজুর ১৩৫ টাকা। এসব পণ্যের দাম বাজারের চেয়ে কম হওয়ায় চাহিদাও ব্যাপক। তবে সরবরাহ না থাকায় রবিবার থেকে খেজুর ও আজ মঙ্গলবার থেকে ছোলা বুট বিক্রি করতে পারছেন না ডিলাররা। একই কারণে আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে টিসিবির সকল পণ্য বিক্রি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বরিশাল জেলায় ১৬ জন ডিলারের মধ্যে ৪৫ বর্গকিলোমিটারের মহানগরীতেই রয়েছেন ১৫জন। এ মহানগরীতে প্রতি ডিলার ১ টন চিনি, ২০০ থেকে ৩০০ কেজি ডাল, ৭০০ থেকে ১০০০ লিটার তেল, ৫০০ কেজি ছোলা, ২০০ কেজি করে খেজুর বরাদ্দ পাওয়ার কথা থাকলেও পাচ্ছেন অর্ধেক করে। এর মধ্যে শনিবার থেকে খেজুর শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি পাচ্ছেন না ডিলাররা।
টিসিবির বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীতে তাদের নির্ধারিত ডিলারদের মধ্যে রোটেশন প্রথায় প্রতিদিন পাঁচজনকে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন ডিলার পাঁচ দিন পরপর টিসিবি থেকে পণ্য পাচ্ছেন। রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শেখ মাসুদ রানা বলেন, ক্রেতার চাহিদা বেশি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই পণ্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ৪৫ বর্গকিলোমিটারের নগরীতে মাত্র পাঁচজন ডিলার দিয়ে চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।
গতকাল সোমবার নগরীতে টিসিবির ডিলারদের কাছে গিয়ে দেখা গেছে ট্রাকের পেছনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ক্রেতারা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পণ্য ক্রয়ের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সোহাগ। তিনি জানান, প্রখর রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও বিক্রেতার কাছ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে একপর্যায়ে রণে ভঙ্গ দিয়ে লাইন থেকে বের হয়ে যান। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না করায় প্রতিদিনই ক্রেতা ও ডিলারদের মধ্যে বাদানুবাদ হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ টিসিবির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবার খবর পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
টিসিবির এখানকার ডেপুটি সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. আনিছুর রহমান জানান, কেন্দ ীয় দপ্তর থেকে যেভাবে নির্দেশনা রয়েছে সেভাবেই ডিলারদের মাঝে পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ২৩ মে পর্যন্ত।