গভীর ভালবাসায় নিউইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ

৬৫ তম জন্মবার্ষিকীতে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদকে গভীর ভালবাসায় স্মরণ করলেন নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী এই লেখক। জীবনের শেষ বেলায় তিনি নিউইয়র্কের নীলাকাশের ঝকঝকে রোদ গায়ে মেখেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদ নেই, কিন্তু তাকে নিয়ে স্মৃতির মিনার গড়ে তুলেছেন প্রবাসী ভক্তরা। তাইতো ভক্তদের অশ্রুভেজা স্মরণ আর গভীর ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল নিউইয়র্কে লেখকের প্রিয়ভাজন বিশ্বজিত্ সাহার মুক্তধারার অনুষ্ঠানে। হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন বুধবার থেকে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী দিনে ছিল স্মৃতিচারণ এবং লেখকের বইয়ের প্রদর্শনী। বিকালে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন। স্মৃতিচারণ করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ, নাট্যাভিনেত্রী রেখা আহমেদ, সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, মঈনুদ্দিন নাসের, মুলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণদার বিশ্বজিত্ সাহা, তানভীর রব্বানী, মিনু উদ্দিন কলি, সঙ্গীত শিল্পী শাহ মাহবুব প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ফাহিম রেজা নূর। অনুষ্ঠানে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ নিরেট ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি তার লেখনীতে সাধারণ মানুষের জীবন নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। ড. মোমেন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ স্থায়ী মিশনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ছিলেন। মিশনে তিনি যে দায়িত্ব পালন করতেন তা সবই লিখিতভাবে সংরক্ষিত আছে। হুমায়ূন আহমেদ তার কর্মের মাধ্যমে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন বলেন, বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আগমন নয়, আবির্ভাব হয়েছিল। তার সৃজনশীল লেখা তাকে বাংলা সাহিত্যে স্থান করে দিয়েছে। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখকই শুধু নন, তিনি একজন অসাধারণ নাট্য ও চিত্র নির্মাতা ছিলেন। তার আগে এত বড় মাপের কোনো নির্মাতা ছিলেন না। সিনেমায় কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না, অথচ তার তৈরি প্রথম সিনেমা একসঙ্গে ৮টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। জামাল উদ্দিন হোসেন আরো বলেন, হুমায়ূন আহমেদের লেখায় জাদুর স্পর্শ ছিল। তিনি বাস্তবের সঙ্গে কাল্পনিক ঘটনা জুড়ে দিতেন। যে কারণে সবাই কাল্পনিক ঘটনাকেও মেনে নিতেন। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ মাটির মানুষ ছিলেন। প্রকৃতিকে ভালবাসতেন। এ কারণে হিমুকে তিনি খালি পায়ে রাখতেন যাতে মাটির স্পর্শে থাকে। তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্য যতদিন বেঁচে থাকবে, হুমায়ূন আহমেদও ততদিন আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একসময় সিনেমা ও উপন্যাসবিমুখ হয়ে পড়েছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ সবাইকে ফিরিয়ে এনেছেন। তার লেখায় ও উপন্যাসে দেশপ্রেম আছে। অনুষ্ঠানের হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকীতে কেক কাটা হয়। হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে বইমেলা, লেখকের প্রতিকৃতি অঙ্কন, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, কবিতা পাঠ এবং আলোচনা সভা। ১৯ নভেম্বর রাত ১০টায় সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।