নিজামীর বিচার কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩৯
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, আসামিপক্ষকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়ে মতিউর রহমান নিজামীর মামলার বিচার কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এটি নজিরবিহীন, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট এমনকি নিম্ন আদালতেও হরতালের কারণে যদি আইনজীবী অনুপস্থিত থাকেন তাহলে শুনানি অন্যদিন স্থানান্তরিত করা হয়। ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশ ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নিজ চেম্বারে এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে ব্যারিস্টার রাজ্জাক এসব কথা বলেন।
এদিকে মতিউর রহমান নিজামীর রায় যে কোন দিন হতে পারে মর্মে দেয়া ট্রাইব্যুনালের আদেশ পুনঃবিবেচনার জন্য আবেদন করেছে আসামিপক্ষ। নিজামীর আইনজীবী এডভোকেট তারিকুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার নাসির উদ্দিন মাহমুদ বরাবর এ আবেদন করেন। তবে এ বিষয়ে কবে শুনানি হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি আইনজীবী।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমরা রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছি। আশা করছি এর শুনানি হবে। তিনি বলেন, মীর কাসেম আলীর মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনঃবিবেচনার আবেদন (রিভিউ পিটিশন) শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেটি শুনানি ছাড়াই চেম্বারে বসে খারিজ করে দেয়া হয়েছে ।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, আমরা শুনেছি জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মামলায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ এবং রায় কার্যকরের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমরা আশা করব কেউ চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আমরা ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করব। আমাদের প্রত্যাশা আইনের স্বাভাবিক পথ কেউ রুদ্ধ করবেন না। সর্বশেষ আদালতে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ হয়েছে। ফাঁসির কোন আদেশ একটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয় না। এ ধরনের গুরুদণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে রিভিউ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তা মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলংকজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এ সময় এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, এডভোকেট এম তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।