বায়ু বিদ্যুত্ উত্পাদনে যাচ্ছে সরকার

দেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বায়ু বিদ্যুত্ উত্পাদনে যাচ্ছে সরকার। পৃথক তিনটি জেলায় একটি করে এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি-চালিত বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি মিশ্রণে আরো বৈচিত্র্য এবং ভারসাম্য আসবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বায়ু বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব কিনা এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর বায়ু বিদ্যুত্ উত্পাদনের পথে হাঁটছে সরকার। ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এগুলো থেকে দৈনিক মোট ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হবে। চাঁদপুরের কচুয়া, খুলনার মোংলা এবং কক্সবাজারের ইনানি সৈকতে এগুলো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বায়ু বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে সমপ্রতি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করেছে। পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচিত কোম্পানি এগুলো নির্মাণের পর ২০ বছর পর্যন্ত পরিচালনা করবে। এরপর সেগুলো পিডিবির কাছে হস্তান্তর করবে।

বিদ্যুত্ বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মাদ আলাউদ্দিন বলেন, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল্যাবরেটরির (এনআরইএল) আর্থিক সহায়তা নিয়ে বায়ু জরিপ পরিচালিত হয়। এতে দেশের নয়টি স্থানে বায়ু বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের উপযোগিতা রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় তিনটি স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। এরপর অন্য স্থানগুলোতেও বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যেতে পারে। তিনি বলেন,পরীক্ষামূলকভাবে ছোট আকারে কয়েকটি বায়ু বিদ্যুত্ প্রকল্প চলছে। এবার বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। ২০২১ সাল নাগাদ ১০ শতাংশ বিদ্যুত্ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বায়ু বিদ্যুেকন্দ্রগুলো সে প্রচেষ্টারই অংশ।

বায়ু জরিপের সাথে জড়িত এক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাবনাময় স্থানগুলোতে বাতাসের গড় গতি প্রতি সেকেন্ডে পাঁচ মিটারের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ু বিদ্যুত্ উত্পাদনেও অন্তত এ গতি দরকার হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, দেশে বায়ু বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা কারোই নেই। তাই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্মাণ ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য উত্স থেকে প্রায় ৩ শতাংশ বিদ্যুত্ উত্পাদিত হচ্ছে, যা সৌর ও জলবিদ্যুত্ নির্ভর। দৈনিক ৫৭৭ দশমিক ৫৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাত্র ৩ দশমিক ১৮ মেগাওয়াট আসে বায়ু থেকে। এর মধ্যে ১ দশমিক ১৮ মেগাওয়াট গ্রিডে যুক্ত হয়। বাকি ২ মেগাওয়াট স্থানীয় উত্পাদন পর্যায়েই ব্যবহূত হয়।

সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (স্রেডা) এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দেশের উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের গতি নিম্ন থেকে মাঝারিমানের। প্রতি সেকেন্ডে এ গতি সাড়ে ৪ মিটার থেকে ৫ দশমিক ৬ মিটার। এই পরিমাণ গতির বাতাসে বায়ু বিদ্যুত্ টেকসই ও লাভজনক হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বায়ু বিদ্যুতের দাম সৌর বিদ্যুতের মূল্যহারের সমান হলে তা চলবে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট সৌর বিদ্যুতের দাম প্রায় ৯ টাকা।