অচিরেই সাংগঠনিক রূপে গণজাগরণ মঞ্চ
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪১
গণজাগরণ মঞ্চ অচিরেই সাংগঠনিক রূপ লাভ করতে যাচ্ছে। এ জন্য শাহবাগে দাপ্তরিক কার্য পরিচালনার জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর। জেলা-উপজেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে থাকবে তাদের প্রতিনিধি। গতকাল বৃহস্পতিবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে মঞ্চ আয়োজিত ভবিষ্যত্ কর্মপন্থা নির্ধারণ বিষয়ক মুক্ত আলোচনায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাষ্টি ড. সরোয়ার আলী, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রম, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ছাত্রনেতা বাপ্পাদিত্য বসু, প্রবীর সাহা, সোবহান আহমেদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক সংগীতা ইমাম, ব্লগার এন্ড নেটওয়ার্ক এক্টিভিস্ট এর সদস্যবৃন্দ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার সংগঠক-কর্মীরা।
ড.সারোয়ার আলী বলেন, আমাদের মধ্যে যাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছে, তাদের কাছে গণজাগরণ মঞ্চ একটি বাতিঘরের মতো। যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার আন্দোলন এবং অসামপ্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন- এই মঞ্চের প্রধান দুইটি দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় ডা. ইমরান এইচ সরকার আগামী বিজয় দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, এ জন্য ‘বিজয় উদযাপন ২০১৩’ নামের একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই দিন বিকাল ৪ টা ৩১ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে বিজয় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের তহবিল সংগ্রহ, প্রচারণার জন্য পত্রিকা প্রকাশ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্তকরণ এবং মঞ্চের বিরুদ্ধে সকল প্রকার অপপ্রচার দূর করে সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণ ও অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র।
প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে তরুণদের যে জাগরণের সূচনা হয়, তার মধ্য দিয়ে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’র আত্মপ্রকাশ। ক্রমেই এই আন্দোলনে যুক্ত হন লাখো মানুষ। এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শতাধিক সংগঠন।