তারেক-মামুনের অর্থ পাচার মামলার রায় রবিবার

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত অর্থ পাচার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী রবিবার। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করেন। তারেকের অনুপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষিত হবে। মামলা দায়ের থেকে শুরু করে পুরো বিচার প্রক্রিয়ায়ই অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। তবে অপর আসামি মামুন ২০০৭ সাল থেকে কারাবন্দি রয়েছেন। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হয়। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেফতার হওয়ার পর তারেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা হলেও এই প্রথম কোনো মামলার নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এর আগে অর্থ পাচারের আরেকটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় দুদক তারেক রহমান ও মামুনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের কার্যাদেশ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। পরবর্তী সময় সিঙ্গাপুরে এই টাকা লেনদেন হয়। এরপর মামুন ওই অর্থ সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটাল স্ট্রিটের সিটিব্যাংক এনএতে তার নামের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। এই টাকা থেকে তারেক রহমান তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন। ২০১১ সালের ৬ জুলাই দুদক আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট ডেবরা লেপরোভেটসহ ১৩ জন সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর বাদী ও আসামি পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলার অভিযোগ প্রমাণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া এ আদালতের মামলা পরিচালনা করার ক্ষমতাও দুদকের নেই। এ মামলার সাথে তারেক রহমানের কোন সম্পৃক্ততা তো নেই-ই। তাই রায়ে তারা খালাস পাবেন। অপর আইনজীবী এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, দুদক মামলাটি প্রমাণ করতে পারেননি। অভিযোগ গঠন ছিলো ত্রুটিপূর্ণ। আসামিরা বেকসুর খালাস পাবেন। দুদক কৌঁসুলি এডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, মামুন তারেকের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বাংলাদেশের ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে অর্থ পাচার করেন। আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি। তাদের অবশ্যই সাজা হবে।