অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে ওয়াটসন
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২১
আইবিএম-এর তৈরি সুপারকম্পিউটার ওয়াটসন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টিভি শো জিওপারডিতে সবচেয়ে বেশি সফল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জে কেনিংস আর ব্র্যাড রাটারকে অনায়াসে পরাজিত করার মাধ্যমে তার কম্পিউটিং শক্তির প্রমাণ দিয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। এখন পর্যন্ত আইবিএম-এর ডিজাইন করা অন্যতম শক্তিশালী একটি সুপারকম্পিউটার এই ওয়াটসন। তবে এতদিন পর্যন্ত সুপারকম্পিউটার ছিল সাধারণ সব মানুষের ধরা-ছোঁয়ার বাইরের এক বস্তু। অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপাররাও ছিল এর নাগালের বাইরে। তবে শেষ পর্যন্ত এই সুপারকম্পিউটারকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে আইবিএম। জিওপারডিতে অংশ নেওয়া ওয়াটসনের ক্ষমতাও এর মধ্যে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। আর এই দ্বিগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটসনই এখন ব্যবহার করা যাবে অনলাইনে। সাধারণ সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করতে যে বিপুল পরিমাণ খরচ লাগে, তার ভগ্নাংশ খরচ করেই ব্যবহার করা যাবে ওয়াটসনকে। আর বিভিন্ন কোম্পানি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা যেকোনো ব্যক্তি জটিল তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বিশেষ ধরনের কোনো সিস্টেম তৈরিতে ওয়াটসনকে কাজে লাগাতে পারবে। ফলে যারা সুপারকম্পিউটার ব্যবহারের চিন্তা করলেও বিপুল পরিমাণ খরচের কারণে তা ব্যবহার করতে পারতেন না, তারা এখন সহজেই ওয়াটসনকে নিয়ে কাজ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি বিশ্বের গত কয়েক বছরের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চিত্র সহজেই অনুমান করা যায় বলেই জানিয়েছে আইবিএম। ওয়াটসনকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা প্রসঙ্গে ওয়াটসন প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিফেন গোল্ড জানিয়েছেন, ‘ভবিষ্যত প্রজন্ম নিঃসন্দেহে ২০১৩ সালকে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনালগ্ন হিসেবেই আখ্যায়িত করবে। কম্পিউটার বা যন্ত্রের সাথে মানুষের যোগাযোগের পদ্ধতি বদলের সময় এটি।’ তিনি বলেন, ‘অনেক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা উদ্যোক্তা অনেক সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হলেও তাদের সক্ষমতা একটি সীমায় আটকে যেতে পারে। এই সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য ওয়াটসন হতে পারে একটি আদর্শ সমাধান।’ ওয়াটসনের সেবা পাওয়ার জন্য কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে, তা এখনও জানায়নি আইবিএম। তবে এর পরিমাণ নগণ্য হবে বলেই ধারণা দিয়েছে তারা। তারচেয়েও বড় কথা, ওয়াটসনকে ব্যবহার করে প্রযুক্তি বিশ্বে সম্ভাবনার অনেক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেই আশা করছে আইবিএম।