সখিপুরে একই মঞ্চে বি. চৌধুরী কাদের সিদ্দিকী নোমান ও কাজী জাফর

সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জাপা), বিকল্পধারা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। গত শুক্রবার টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা মাঠে এক জনসভায় বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমান, কাদের সিদ্দিকী ও কাজী জাফর আহমদ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। ‘ভোট ডাকাতি প্রতিরোধ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ দাবিতে এ জনসভার আয়োজন করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। ১৯৯৯ সালে সখিপুর-বাসাইল উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনে প্রতিবছর ১৫ নভেম্বর দিনটিকে ‘ভোট ডাকাতি প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে দলটি। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় যেতে চায়। আর তাই সুকৌশলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। আমরা সাধারণ জনগণকে নিয়ে এই ভোট ডাকাতি প্রতিহত করবো। ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে রক্ষা করবো। একদলীয় নির্বাচন রুখে দিব।’ এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, ‘আগের নির্বাচনে কাদের সিদ্দিকীকে ভোট দিয়েছেন?’ উপস্থিত প্রায় এক লাখ জনতা হাত তুলে বলেন ‘হ্যাঁ, ভোট দিয়েছি’। প্রতিউত্তরে বিকল্প ধারার সভাপতি বলেন, ‘তাহলে এত ভোট গেল কই? চুরি হইছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই আপনাদের ভোটের অধিকার আদায় করব।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, জনগণের ভোট নিয়ে সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের ভোটাধিকার ও মতের প্রতিফলনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার। এ দাবিতে চলা আন্দোলন শুধু বিএনপির নয়, সকল জনগণের আন্দোলন। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেন, শেখ হাসিনা ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আসতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। জনসভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, তাকে আমন্ত্রণ জানাতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু তিনি যেহেতু মহাজোটের মধ্যে, মহাচোরের মধ্যে এখনও রয়েছেন তাই তাকে আমি দাওয়াত দেইনি। তিনি যতোক্ষণ সেই মহাচোরে আছেন ততক্ষণ আমি তার সাথে সামাজিকভাবে হলেও রাজনৈতিক বা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলব না। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ বলেন, দেশ থেকে গণতন্ত্র নির্বাসিত হতে বসেছে। মহাজোট থেকে জাপার পদত্যাগ সম্পর্কে এবং কাদের সিদ্দিকীর এক মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এরশাদ বারবার মহাজোট সরকার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে দলের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তও রয়েছে। মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক, বেগম নাসরিন সিদ্দিকী, হামিদুল হক বীরপ্রতীক প্রমুখ।