পথে ঘাটে

- আপা ছেলেরে কোচিং এ দিছেন নাকি? - কোচিং এ না দিলে পারবে কি করে? - আমি তো কোচিং এ পাঠানোর সাহস পাই না। বাইরে বের করার উপায় আছে? দেশের যে অবস্থা ছেলেকে নিয়ে বাইরে বের হতেই ভয় লাগে। এই জন্য বাসায় টিচার রাখছি। একটা ছেলে এসে পড়িয়ে যায়। পাঁচটা গাইড কিনেছি। গাইডে মোটামুটি সব আছে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে অপেক্ষায় মায়েরা। পত্রিকা বিছিয়ে কিংবা একটু ঘাসের উপরে খণ্ড খণ্ড জোট করে কথায় ব্যস্ত তারা। - কোচিং করলে কি চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গতবার ঐ কোচিং থেকে অনেকে চান্স পাইছে। - আমি ওর বয়স এক বছর কমায়ে দিছি। অনেক চাপ তো নিতে হবে। আট বছর হইছে। আমি সাত বছর উল্লেখ করে সার্টিফিকেট তুলছি। আর এই এক মাস গানের টিচার বাদ দিছি। আর একজন টিচার দেব ভাবছি। - ফরম তুলেছেন কয়টা? - চারটা স্কুলের ফরম তুলেছি ভাবি। দেখি আল্লায় কোন স্কুলে রাখে। - সব তো লটারি হবে তবে এত পড়াচ্ছেন কেন?- নতুন একজন শুরু করল কথা। - লটারি হবে। কিন্তু মৌখিকও একটা রাখবে শুনতেছি। মৌখিক এ যদি বাদ দেয় তবে তো শেষ। - আপনার ছেলে বড় আছে। ও চান্স পাবে। - বড় তো সবাই-ই। কারো বয়স সাত বছরের মধ্যে আছে মনে করেন? নয় বছরের বাচ্চার জন্য সাত বছর বয়স দেখিয়ে ফরম তুলছে। - ভাবি আমার ছেলে বড় হয়ে কি হতে চায় জানেন? - কি? - ও বলে কি, ‘বড় হয়ে আমি এমন শক্তিশালী হব যে হরতালরে এক ঘুষিতে মেরে ফেলব। হরতালের চেয়ে আমি বেশি শক্তিশালি হব। হরতালের সাথে মারামারি করবো। হরতালের মাথা ফাটিয়ে দেব, ও যেন আর কাউকে মারতে না পারে।’ ওর বাবা গল্প করেছে হরতালে কয়েকজন মারা গেছে। তাই শুনে ও হরতালের চেয়ে শক্তিশালি হওয়ার মত বড় হতে চায়। ও আবার এমন স্কুলে পড়তে চায় যেখানে মারামরি না করতে শেখায়। এমন সব কথা বলে আমার মাথায় ঢোকে না। - আমার ছেলে তো বিদেশ চলে যেতে চায়। ও থ্রিতে পড়ে, কিন্তু একেবারে বড়দের মত পাকা পাকা কথা ওর। ‘এ দেশে থেকে কি হবে? মারামারির মধ্যে আমি নেই।’ আমি বলি আমাদের জন্যে তোর খারাপ লাগবে না? ও বলে, ‘তোমরা থাক হাসিনা খালেদার সাথে। আমি যাই।’ - আসলেই। এই দুই মহিলাকে বাদ দেয়ার দরকার। পড়াশুনা গোল্লায় গেল। সে দিকে কারো খেয়াল নেই। - ভাবি ওদের কথা আর বলে লাভ নেই। আপনি জেনারেল নলেজ সব করাইছেন? - হ্যাঁ। আমি পাঁচশ জেনারেল নলেজ করাইছি। একেবারে মুখস্থ। সকাল বিকেল রাতে সব সময় রিভিশন দেয়াচ্ছি। ছেলেটা কাল বমি করেছে পড়তে পড়তে। - বাচ্চাগুলোর খাওয়া নেই, ঘুম নেই। - হ্যাঁ। ডিসেম্বর মাস আসে আর ভর্তি বাণিজ্য শুরু হয়। লাখ লাখ টাকা ভর্তি বাণিজ্যে আয় করে ওরা। সেদিকে নজর দেয়ার মত সময় কি আছে? শুধু হরতাল দিতে পারে। - দুইটারেই টেনে নামানো দরকার।