‘২২ গজের জায়গাটাই আমার জীবন’

এতো দীর্ঘকাল ক্রিকেটের সাথে ছিলেন। ব্যাপারটা আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং? শচিন: হ্যা, দীর্ঘ ২৪ বছর দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। আমার প্রবল ইচ্ছা শক্তি ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত কাজটা ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। সময়টাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? শচিন: এটা আমার জন্য ছিল স্বপ্নের মতো এক সময়। এখন ছেড়ে আসার পরও কোন আক্ষেপ নেই। ২২ গজের জায়গাটা আমার জীবন। এটাকে আমি মন্দিরের মতোই ভাবতাম। ২৪ বছর ধরে টানা সাফল্য পাওয়ার রহস্যটা কি? শচিন: আমি খেলাটাকে অনেক বেশি উপভোগ করতাম। আর সত্যি কথা বলতে কি আমি ঠিক করে রেখেছিলাম যেদিন থেকে ক্রিকেট আমি উপভোগ করবো না সেদিনই খেলাটা ছেড়ে দিবো। ভাগ্য সহায় ছিল যে ইনজুরি আমাকে খুব বেশি ভোগাতে পারেনি। ট্রেনিং সেশনগুলোকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাবতাম। ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেললেন। কেমন লাগছে? শচিন: আমিই বিসিসিআইকে অনুরোধ করেছিলাম যে, সম্ভব হলে ম্যাচটা মুম্বাইয়ে আয়োজন করতে। আমার মা আমাকে কখনও সামনে থেকে খেলতে দেখেননি। তিনি নিজে থেকে খেলা দেখতে চাওয়ার কথা আমাকে জানাননি। আমি তাকে একটা সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চ্যানেলগুলোর কারণে আগে থেকেই তিনি খবর পেয়ে গেছেন। ভারতের হয়ে আপনাকে আর দেখা যাবে না। মাঠের বাইরে থেকে আপনি দলের জন্য কি করবেন? শচিন: আমার শরীর এখানে উপস্থিত না থাকলেও আমি দলের জন্য অবশ্যই প্রার্থনা করবো। যেকোন খেলাতেই আগে আমার কাছে ভারত, এরপর অন্য কেউ। ভারত রত্ন খেতাবে ভূষিত হওয়ার অনুভূতিটা একটু বলবেন কি? শচিন:গতকালই (গত পরশু) আমি বলেছিলাম, এই অ্যাওয়ার্ডটা আমি আমার মাকে উত্সর্গ করতে চাই। কারণ, তিনি আমার জন্য ছোটবেলা থেকে যা করেছেন তা কখনোই ভোলার নয়। ছোট থাকতে জীবনের ব্যাপারে আমার কোন ধারণা ছিল না। আজ আমি যে অবস্থানে আসতে পেরেছি তার সবটাই আমার মায়ের জন্য। শুধু আমার মা-ই নন, ভারতের যেসব মা তাদের সন্তানের জন্য তাদের জীবন বিসর্জন দেন, তাদের প্রতি আমি এই ভারত রত্ন উত্সর্গ করছি। ক্রিকেট অ্যাকাডেমি করার কোন পরিকল্পনা আছে কি? শচিন:অবশ্যই আছে। আমি এরই মধ্যে কিছু তরুণ তারকার সাথে সময় কাটিয়েছি। তাদের সাথে জ্ঞানের আদান-প্রদানটা বেশ ভাল হয়। অবসরের ভাবনাটা কি করে এল? শচিন: অবসর নিয়ে আমি অনেকবার ভেবেছি। মন থেকে সব সময়ই আমি বিশ্বাস করি যে, আমি ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। খেলোয়াড়রা যখন মাঠের মধ্যেই আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালো তখন আমি অনেক আবেগী হয়ে গিয়েছিলাম। আসলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা যে কোন সময়ই অনেক বেশি গর্বের। তাই আবেগী হতেই হবে। আজ (গতকাল) সকালে যখন ঘুম থেকে উঠলেন তখন কেমন লাগছিল? শচিন: সকালে উঠে হঠাত্ করেই মনে পড়লো যে, আজ থেকে আর কোন খেলা নেই। এরপর আমি নিজের জন্য কফি বানাই। সব কিছু আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসে।