‘ক্রিকেট ছাড়া শচিনকে ভাবতে পারছি না’
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৪
ভারতের লিটল মাস্টার শচিন টেন্ডুলকারের স্ত্রী অঞ্জলি টেন্ডুলকার বলেছেন, ক্রিকেট ছাড়া তার স্বামী শচিনকে নিয়ে ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। শনিবার ওংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে ২৪ বছরের বন্ধনের ইতি ঘটিয়েছেন ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার।
টেলিভিশন চ্যানেল স্টার স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাত্কারে অঞ্জলি বলেন, ‘গত মাসটি আমাদের জন্য ছিল কঠিন একটি সময়। এই দিনটির কথা যখনই ভেবেছি, তখনই আবেগাপ্লুত হয়েছি। ক্রিকেট ছাড়া টেন্ডুলকারের কথা যেন ভাবতেই পারছি না। ক্রিকেট ছাড়া টেন্ডুলকার, এটি ভাবতেই আমাদের কষ্ট হচ্ছে।’
এই খেলা থেকে টেন্ডুলকার কখনোই বিচ্ছিন্ন হতে পারবেন না উল্লেখ করে অঞ্জলি বলেন, আমি কখনো তাকে ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে দেখিনি। এমনকি তিনি যখন ইংল্যান্ডে অবকাশ যাপন করতে গিয়েছেন, তখনো তিনি এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এই খেলাটির ব্যাপারে তিনি সব সময় খুবই সজাগ থাকতেন। এজন্য তিনি কখনো অতিরিক্ত খাবার খেতেন না। ছেলে অর্জুনকে নিয়ে তিনি সব সময় অনুশীলনে থাকতেন, সেই সঙ্গে শরীর চর্চা করতেন। কারণ খেলার জন্য ডাক আসার সাথে সাথেই যেন তিনি সাড়া দিতে পারেন সে জন্য সব সময় নিজেকে ফিট রাখতেন।’
স্বামী টেন্ডুলকার আবেগকে লুকিয়ে রাখায় পারদর্শী উল্লেখ করে অঞ্জলি বলেন, একমাত্র তিনিই জানেন তার মনের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে কি পরিমাণ আবেগ পুঞ্জিভূত হয়ে আছে। যদিও এই মাঠেই ২০১১ সালে বিশ্বকাপের শিরোপা হাতে নেয়ার পর এই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে দেখা গিয়েছিল।
আবেগ এড়ানোর জন্যই কি চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে রেখেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অঞ্জলি বলেন, ‘আমিও যথেষ্ট আবেগ লুকাতে পারি। হয়তো আজকে পারছি না, কিন্তু কাল থেকে পারব।’
মেয়ে সারা ও ছেলে অর্জুনের জন্য বিষয়টি কতটুকু কঠিন হবে জানতে চাইলে অঞ্জলি বলেন, ‘সারা অনেকটাই তার বাবার মত। সে কখনো তার আবেগ প্রকাশিত হতে দেয় না। তাদের জন্মের আগে থেকেই টেন্ডুলকার ক্রিকেট তারকা বনে গিয়েছিলেন। তাই তারা যখন বড় হচ্ছিল তখন অনুভব করেছে তাদের পিতা ক্রিকেটের জন্য কতটা (গুরুত্বপূর্ণ) ছিলেন।’
অঞ্জলি আরো বলেন, শুক্রবার টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে সন্তানকে বল বয় হিসেবে দেখতে পেয়ে টেন্ডুলকার খুবই আনন্দিত হয়েছেন। ১৯৮৭ সালে এই মাঠেই অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সময় টেন্ডুলকার নিজেও বল বয় ছিলেন।
অঞ্জলি বলেন, সম্ভবত মুম্বাই অনূর্ধ্ব-১৪ দলে জায়গা পেতে যাচ্ছে অর্জুন। শুক্রবার তার হ্যারিস শিল্ডের ম্যাচে অংশ নেয়ার কথা ছিল। তার বাবা তাকে বলে দিয়েছেন, সে যেন কোনভাবেই খেলাটি মিস না করে। কিন্তু খেলার জন্য স্কুলে গিয়ে দেখতে পেল সে কোনভাবেই সেখানে মন বসাতে পারছে না। যে কারণে সে স্টেডিয়ামে চলে আসে। ইতোমধ্যে তার কোচ তার জন্য একটি এক্রিডিটেশন কার্ড যোগাড় করেছিল। ফলে অর্জুনকে বল বয় হিসেবে দেখতে পেয়ে টেন্ডুলকার কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন।’
অঞ্জলি আরো বলেন, এখন থেকে পারিবারে কিছু দায়িত্বও টেন্ডুলকারের হাতে তুলে দিবেন তিনি। বলেন, ‘এ বিষয়টিতে টেন্ডুলকার কিছুটা ভীত। আশা করি, এখন থেকে আমি তার ওপর পরিবারের কিছু দায়-দায়িত্ব তুলে দিব।’-বাসস