‘ওয়েলডান, শচিন!’

কাঁদছে বিশ্ব! কান্নাটাই স্বাভাবিক। আর কোনদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যাবে না ক্রিকেটের মহানায়ক শচিন টেন্ডুলকারকে। ২৪ বছর ধরে ক্রিকেটকে যিনি নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে মুম্বাইয়ের সেই ক্রিকেটারটি বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেটকে। এমন বিদায়ের পর তাই ক্রিকেট বিশ্বই এখন শোকাগ্রস্ত। শচিনের বিদায় ছুঁয়ে গেছে তার গুরুকেও। প্রেসিডেন্ট বক্স থেকে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং দেখা রমাকান্ত আচরেকারের চোখেও অশ্রু এসেছিল শীষ্যের বিদায়ে। আর এমন এক ক্যারিয়ার শেষে প্রথমবারের মতো শচিনের প্রশংসা করলেন তিনি। ম্যাচ জয়ের পরই শচিনকে ফোন করে শুভেচ্ছাও জানান তিনি। প্রথমবারের মতো বলেন, ‘ওয়েলডান, শচিন’। টেস্টে নিজের শেষ ইনিংসে ৭৪ রানে আউট হন শচিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার শেন শিলিংফোর্ডের বলে আপারকাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন স্লিপে। এখানেই শেষ; নিজ মাঠে নায়কের মতো মাথা তুলেই বের হয়ে আসলেন। ফেরার আগে দর্শকদের দিকে ব্যাট তুলে অভিবাদনের জবাব দিলেন। সেই সময়টাতে মাঠে ছিলেন শচিনের কোচ রমাকান্ত আচরেকার। তখন ৭১ বছর বয়সী রমাকান্তও নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। ভারতীয় পত্রিকা মিডডে কে রমাকান্তের কন্যা কল্পনা বলেন, ‘শচিন আউট হয়ে যাওয়ার পর তিনি বেশ বিষণ্ন হয়ে পড়েছিলেন। এর একটু পর তার চোখ দিয়ে আমি পানি পড়তে দেখি। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি, দ্বিতীয় ইনিংস এখনও বাকি। এর খানিক বাদে তিনি স্বাভাবিক হন।’ প্রায় একই রকম অবস্থা হয় শচিনের মায়ের ক্ষেত্রেও। স্তম্ভিত হয়ে যান যখন আউট হওয়ার পর ক্রিজ থেকে হেঁটে ফিরছিলেন শচিন; শেষবারের মতো। তার পাশেই বসা এক দর্শক মিডডে কে বলেন, ‘তিনি স্বাভাবিকভাবেই ভাল বোধ করছিলেন না। হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। তবে, আবেগকে প্রশ্রয় দেননি। সবার মতো তিনিও চাইছিলেন শচিন সেঞ্চুরি করুক। কিন্তু হল না। লাঞ্চের পরই তিনি বাড়ি ফিরে যান।’ শচিন রমেশ টেন্ডুলকারের নাম আসলেই অবধারিতভাবেই আসে তার গুরু রমাকান্ত আচরেকারের নাম। প্রতিবছর গুরুপূর্ণিমাতে গুরুর আশীর্বাদ নিতে ভুল করেন না শচিন। আর নিজের শেষ ম্যাচে শচিন ব্যক্তিগত উদ্যোগেই রমাকান্তকে মাঠে এনে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করেন। শীষ্যের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে এসে আচরেকারও মুগ্ধ। শিশু বয়স থেকে এখন পর্যন্ত একবারও শচিনের পিঠ চাপড়ে প্রশংসা না করা এই কোচ অবশেষে বিদায়বেলায় আর কিপটেমি করলেন না। দারুণ এক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন জানালেন লিটল জিনিয়াসকে। শচিন প্রশস্তি এখন ক্রীড়াবিশ্বের একমাত্র ভাষ্য। শোকে পাথর হয়েও একযোগে রমাকান্তের মতোই যেন সবাই বলে উঠছে, ‘ওয়েলডান, শচিন!’