চট্টগ্রামে সরকারি স্কুলে শিক্ষক সঙ্কট

চট্টগ্রামে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে কয়েক বছর যাবত্ তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। ডাব্ল শিফ্ট চালুর কয়েক বছরেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। যার ফলে শ্রেণী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে করে এসব সরকারি স্কুলের শ্রেণী কার্যক্রম নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিভাবকরা জানান, ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে আসা ছাত্রছাত্রীরা সরকারি এসব স্কুলে শ্রেণী শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকেই নিয়মিত স্কুলে আসতে অনীহা দেখায়। চট্টগ্রামে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে কয়েক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ভালমানের স্কুলের সংকট প্রকট। প্রতি বছর শিক্ষার্থীর হার বাড়লেও ভাল মানের স্কুলের সংকট নিরসন হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পড়ালেখার মানের গুণগত উন্নতি না হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা নামি-দামি ৮/৯টি স্কুলে ভর্তির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। আসন সংখ্যা স্বল্পতায় ভর্তি পরীক্ষায় সীমাহীন প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। চট্টগ্রামে ৯টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণী থেকে এসব স্কুলে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি নিয়ে ব্যাপক ভর্তি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় কোমলমতি শিশুরা। ২০১০ সালে নগরীর ৯টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে ৫টিতে ডাব্ল শিফ্ট চালু করা হয়। এর আগে ৪টি স্কুলে ডাব্ল শিফ্ট ছিল। কিন্তু ডাব্ল শিফ্ট চালুর আগে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। অনেক স্কুলে এক শিফ্ট পরিচালনা করার মত শিক্ষক স্বল্পতাও রয়েছে। ডাব্ল শিফ্ট চালুর পর থেকে বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পদ সৃষ্টি করে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতা ও গাফিলতির কারণে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা পরিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আজিজউদ্দিন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘চট্টগ্রামের ৯টি স্কুলের জন্য শিক্ষকের ১২০টি নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।’ তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ৭টি জেলায় ৯১টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে ৪০১টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। আগামী ১লা ডিসেম্বর মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফলে অনেক আগে থেকে অভিভাবকরা পছন্দের ভাল স্কুলে ছেলেমেয়েদের ভর্তির জন্য হুমড়ি খেয়ে নেমেছেন। সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের মাধ্যমে কোচিং করানো হচ্ছে। যেসব শিক্ষকের সুনাম রয়েছে তাদের কাছে কোচিং করাতে ধর্না দিচ্ছেন অভিভাবকরা। এদিকে শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই নগরী ও জেলার বিভিন্নস্থানে ‘বাণিজ্যিকভাবে’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। নগরীসহ বিভিন্নস্থান এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ছেয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভর্তি নিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না।