গ্রামীণ ব্যাংক ও রাজনৈতিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর ক্রমাগত সরকারি হস্তক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনার বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় সোয়া ঘন্টা বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ড. ইউনূস অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী মন্ত্রী গ্রামীণ ব্যাংকে ক্রমাগত সরকারি হস্তক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট এবং অনিশ্চয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি রয়েছে। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক সংকটের কার্যকর সমাধান না হলে বাংলাদেশ যতটা এগিয়েছে ততটাই পিছিয়ে যাবে। এ কারণে চলমান সংকটের কার্যকর সমাধানের ব্যাপারে দেশের সকল পর্যায়ের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ড. ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশা দেশাই আমার কাছে জানতে চেয়েছেন। এ ব্যাপারে আমি ইতিপূর্বে গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছি, সেটাই তার কাছে পুনরুল্লেখ করেছি মাত্র। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও গ্রামীণ ব্যাংকের একজন ভক্ত হিসেবে এর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমার কাছে জানতে চান। ব্যাংকটি নিয়ে অনেকের মতো আমার মধ্যেও যে উদ্বেগ কাজ করছে, সেটি আমি তাকে জানিয়েছি। এছাড়াও সামাজিক ব্যবসা প্রসঙ্গে এবং আমার মিয়ানমার সফরের বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে নিশার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’ পোশাক শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র এদিকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলার জন্য অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন দেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন নিশা দেশাই বিসওয়াল। পোশাক কারখানায় চলমান শ্রম অসন্তোষে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার পেলে এই খাতে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিন-এ বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠককালে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ তাজরীন ফ্যাশনস্ অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর তাদের নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে নিশা দেশাইকে অবহিত করেন। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ তাকে জানিয়েছেন, ট্রেড ইউনিয়ন করতে বর্তমানে কোন বাধা নেই। এছাড়া তারা জিএসপি সুবিধা ফেরত দেয়ার পাশাপাশি দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছেন। বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। কারখানায় বুয়েটের প্রকৌশলী, ফায়ার সেফটির লোকবল নিয়োগ করা, আইএলও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বায়ারদের সমন্বয়ে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সে এর মাধ্যমে এসব কার্যক্রম এগুচ্ছে। সামপ্রতিক সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের পরিমাণ অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বেড়েছে। গত তিন বছরের মাথায় শ্রমিকদের মজুরি দুই দফায় বেড়ে এখন ৫ হাজার ৩০০ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা মনে করি এসব উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থগিত হওয়া জিএসপি ফেরত পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে আমরা দেশটিতে গার্মেন্টস রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছি। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, রিয়াজ বিন মাহমুদসহ অন্য পরিচালকবৃন্দ। উল্লেখ্য, সমপ্রতি বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেছিলেন ড্যান মজীনা। ওই বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, পোশাক শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা তৈরি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভুল বার্তা পাঠাবে। যাতে স্থগিত হওয়া জিএসপি পুনরুদ্ধার কঠিন হতে পারে। প্রসঙ্গত, তিন দিনের সফরে গত শনিবার ঢাকায় এসেছেন নিশা দেশাই বিসওয়াল। আজ সোমবার রাতে তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।