ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকেই রাশি বলে

পদার্থবিজ্ঞান স্নেহাংশু শেখর উপাধ্যক্ষ মাসকট ইনোভেটিভ কলেজ, ঢাকা জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর তৃতীয় অধ্যায় (গতি) রাশি : ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকেই রাশি বলে। স্কেলার রাশি : যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণ রূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না। তাদেরকে স্কেলার রাশি বলে। ভেক্টর রাশি : যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে। স্থিতি : সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে কোন বস্তুর অবস্থান অপরিবর্তিত থাকাকে স্থিতি বলে। গতি : সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিকের স্বাপেক্ষে কোন বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের ঘটনাকে গতি বলে। সরণ : নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে অবস্থানের পরিবর্তনকে সরণ বলে। দ্রুতি: সময়ের সাথে কোন বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের হারকে দ্রুতি বলে। বেগ : সময়ের সাথে কোন বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। অর্থাত্ বস্তু নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে পথ অতিক্রম করে তাকে বেগ বলে। সুষম বেগ : যদি গতিশীল কোন বস্তুর বেগের মান ও দিক অপরিবর্তিত থাকে তাহলে সেই বস্তুর বেগকে সুষম বেগ বলে। অসম বেগ : কোন বস্তু যদি গতিকালে বেগের মান বা দিক বা উভয়ের পরিবর্তন ঘটে তাহলে বস্তুর সে বেগকে অসম বেগ বলে। ত্বরণ : সময়ের সাথে অসম বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। সুষম ত্বরণ : কোন বস্তুর বেগ যদি নির্দিষ্ট দিকে সবসময় একই হারে বাড়তে থাকে তাহলে সেই ত্বরণকে সুষম ত্বরণ বলে। অসম ত্বরণ : কোন বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হার যদি সমান না থাকে তাকে অসম ত্বরণ বলে। নিউটনের গতির প্রথম সূত্র : বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরল পথে চলতে থাকবে। নিউটনের গতি দ্বিতীয় সূত্র : বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের-সমানু পাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে ভরবেগের পরিবর্তন ও সেদিকে হয়। নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র : প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। জড়তা: পদার্থ যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা তাকে জড়তা বলে। বল: যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। ভরবেগ: বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে ভরবেগ বলে। 1nবল : যে পরিমাণ বল1kg ভরের কোন বস্তুর উপর ক্রিয়া করে 1ms-2ত্বরণ সৃষ্টি করতে পারে তাকে 1নিউটন (N)বল বলে। ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র: একাধিক বস্তুর মধ্যে ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া ছাড়া অন্য বল কাজ না করলে কোন নির্দিষ্ট দিকে তাদের মোট ভরবেগের কোন পরিবর্তন হয় না। ঘর্ষণ: দুটি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একের উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে অথবা চলতে থাকে তাহলে বস্তুদ্বয়ে স্পর্শতলে এ গতির বিরুদ্ধে একটি বাধার উত্পত্তি হয়, এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। এ বাধার ফলে যে বল উত্পন্ন হয় তাকে ঘর্ষণ বল বলে।