সুপার সিক্সে উঠলো শেখ জামাল

মৌসুমে বড় দল গড়া শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব অবশেষে নিজেদের স্বস্তি ফিরে পেল। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে গতকাল ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৭০ রানে হারিয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শেখ জামাল ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্রাদার্স ২১২ রানে আটকে ৭০ রানে পরাজিত হয়ে লিগ থেকে ছিটকে গেলে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৬ রানে ইমতিয়াজকে হারায় ব্রাদার্স। দ্বিতীয় উইকেটে মেহরাব জুনিয়র ও নাফিস ইকবাল ৫০ রানের জুটি গড়েন । দলীয় ৫৬ রানে মেহরাব জুনিয়র ১৬ রানে সাজঘরে ফিরেন। এরপর রানের চাকা সচল রাখেন নাফিস ও অলক কাপালি। এই দুই ব্যাটসম্যান দলের স্কোরকে ১১২ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা নাফিস ৬২ রানে ইলিয়াস সানীর বলে চিগাম্বুরার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। নাফিসের বিদায়ের পর অলক কাপালী ৪৫ রানের ইনিংস খেলে প্রতিরোধ তৈরি করে। তবে রাজ্জাকের বলে ৪৫ রানের ইনিংসটি থেমে যাবার পর আর কোন ব্যাটসম্যান ব্রাদার্সকে ম্যাচে নিয়ে আসতে পারেনি। শেষ দিকে শন আরভিন ২ চার ও ২ ছয়ে ৩৪ রান করলেও তা পরাজয়ের ব্যবধান কমায় মাত্র। রাজ্জাক ৩২ রানে ৩টি এবং দিলশান মুনাবিরা ও তানভির হায়দার ২টি করে উইকেট পান। এর আগে ‘হোম অব ক্রিকেট’ মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শেখ জামালের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন জহিরুল ইসলাম। এছাড়া স্টিভেন ৫৬, চিগাম্বুরা ৫০, মুশফিকুর রহিম ৪৩ ও আব্দুর রাজ্জাক ৩৯ রান করেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ইফতেখার সাজ্জাদ রনির তোপে পড়ে শেখ জামাল। মাত্র ১০ রান তুলতেই জুনায়েদ সিদ্দিক (০) ও দিলশান মুনাবিরাকে (৩) রানে ফিরিয়ে দেন রনি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ায় শেখ জামাল। অধিনায়ক মুশফিক ও জহিরুল ইসলাম প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। মুশফিক ৪৩ রানে সানজামুলের বলে ফিরে গেলেও জহিরুল ইসলাম অর্ধশত তুলে নেন। মুশফিকের বিদায়ের পর স্টিভেন ৫৬ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলে রানের চাকা সচল রাখেন। ৭ চার ও ১ ছয়ে স্টিভেনের ৫৬ রানের ইনিংসটি থামান অলক কাপালি। এরপর অলোক কাপালি জহিরুল ইসলাম (৬৯) ও নাহিদুল ইসলামকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। জহিরুল তার ৬৯ রানের ইনিংসটি সাজান ৮৯ বলে। এজন্য ৮টি চার হাঁকান তিনি। শেষ দিকে আব্দুর রাজ্জাকের ঝড়ো ১৮ বলে ৩৯ ও চিগাম্বুরার ৪৯ বলে ৫০ রানের ইনিংসে ২৮৩ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় শেখ জামাল। রাজ্জাক ৪টি চার ও ২ ছয়ে ৩৯ রান করেন। ব্রাদার্সের হয়ে অলক কাপালি ৩৪ রানে ৩টি এবং রনি ও সানজামুল ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে রান পাওয়ার পর বোলিংয়েও দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন আব্দুর রাজ্জাক। এর আগে গত ৯ নভেম্বর ব্রাদার্স ও শেখ জামালের ম্যাচে ব্রাদার্সের অধিনায়ক সোহরাওয়ার্দী শুভ এক ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড হয়েও খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই থেকে শুরু হয় ম্যাচটি নিয়ে বিতর্ক। শেখ জামাল দাবি করেছিল পয়েন্ট কেটে নিয়ে তাদের পয়েন্ট দেয়ার। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম পর্ব থেকে ৫টি দল ইতিমধ্যেই সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে। দলগুলো হলো- আবাহনী, মোহামেডান, প্রাইম ব্যাংক, প্রাইম দোলেশ্বর, কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমী ও গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স। সংক্ষিপ্ত স্কোর টস:শেখ জামাল শেখ জামাল: ৫০ ওভারে ২৮২/৭ (জহিরুল ইসলাম অমি ৬৯, মুশফিকুর রহিম ৪৩, স্টিভেন ক্রুক ৫৬, এলটন চিগুম্বুরা ৫০, আব্দুর রাজ্জাক ৩৯; অলক কাপালি ৩/৩৪, ইফতেখার সাজ্জাদ রনি ২/১৫, সানজামুল ইসলাম ২/৫৪)। ব্রাদার্স ইউনিয়ন:৪৬.২ ওভার ২১২ অল আউট (নাফিস ইকবাল ৬২, অলক কাপালি ৪৫, শন আরভিন ৩৪; আব্দুর রাজ্জাক ৩/৩২, দিলশান মুনাবিরা ২/৩৮, তানভির হায়দার ২/৯)। ফল: শেখ জামাল ৭০ রানে জয়ী।