টেন্ডুলকারের পর কে?
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৩৪
প্রায় পাঁচ যুগ আগের কথা। তত্কালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু অসুস্থ হয়ে পড়ায় জনমনে একটা প্রশ্নের উদয় হয়েছিল, ‘নেহেরুর পর কে?’ টানা ১৭ বছর দেশের শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করার পর এমন প্রশ্নের উদয় হওয়া স্বাভাবিক। ২৪ বছরের ক্যারিয়ার শেষে শচিন টেন্ডুলকারের বিদায়ে ক্রিকেট পাগল ভারতীয় জনগণ এখন সেই একইরকম এক প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে, ‘শচিনের পর কে?’ সত্যি তাই। শুধু ভারতীয়রাই নন, এই প্রশ্নটা এখন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের। শচিন যেসব রেকর্ড করে গেছেন সেগুলো আদৌ ভাঙবে কি না সেটা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারছেন না।
এমন সংশয় প্রকাশকারীদের তালিকায় আছেন আরেক সাবেক ভারতীয় গ্রেট কপিল দেব, ‘রেকর্ড কখনো চিরস্থায়ী নয়। তবে শচিনের ব্যাপারটা আলাদা। ২০০টি টেস্ট খেলা কিংবা ১০০টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করার রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়া সত্যি অনেক কঠিন।’
ক্রিকেট গ্রেটদের তালিকার শীর্ষে শচিন থাকবেন কিনা সেটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতেই পারে। সেই ১৯৪৮ সালে ৩৯ টেস্ট খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানানো অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের টেস্ট গড় ছিল ৯৯.৯৪। শেষ ইনিংসে আর চার রান করতে পারলেই গড় পৌঁছে যেত তিন অংকের ম্যাজিকাল ফিগারে।
শচিন সবচেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ১৩৬ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভেন্যুতে ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ডও তার। ১৯৮৯ সালে করাচিতে তার অভিষেকের পর ভারত খেলেছে ২১৭টি টেস্ট। এর মধ্যে শচিন নিজেই খেলেছেন ২০০ টিতে। এক কথায় অবিশ্বাস্য! টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার দখলে। টেস্টে ৫১টি আর ওয়ানডেতে ৪৯টি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি সেঞ্চুরি করাও আরেকটি রেকর্ড। ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ব্যাটেই বিশ্ব দেখে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি।
এখানেই শেষ নয়। রেকর্ডকে যিনি রীতিমতো ছেলেখেলা বানিয়ে ছেড়েছেন সেই শচিনই ক্রিকেটে সর্বোচ্চ টেস্ট আর ওয়ানডে রানের মালিক। টেস্টে করেছেন ১৫,৯২১ রান। আর ওয়ানডেতে ১৮,৪২৬ রান। স্থায়িত্বের দিক থেকেও শচিনকে টপকানো কোন ব্যাটসম্যানের জন্য প্রায় অসম্ভব। টেস্টে রানের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান রিকি পন্টিং (১৩,৩৭৮) অবসর নিয়ে ফেলেছেন। আর বর্তমানে খেলার মধ্যে থাকা জ্যাক ক্যালিসের চেয়ে টেন্ডুলকার এগিয়ে আছেন ২৭৮১ রান বেশি নিয়ে।
ওয়ানডে ক্রিকেটেও একতরফা ভাবে এগিয়ে টেন্ডুলকার। ওয়ানডেতে ১৮,৪২৬ রানের মালিক টেন্ডুলকারের পরেই ৪,৭২২ রান কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন পন্টিং। তৃতীয় স্থানে থাকা কুমার সাঙ্গাকারার সংগ্রহে রয়েছে ১১,৯৪৮ রান, অর্থাত্ টেন্ডুলকারের চেয়ে ৬,৪৭৮ রান কম।
টেন্ডুলকারের ৪৯টি ওয়ানডে শতকের পাশে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পন্টিংয়ের ৩০টি শতক অনেকটা নির্জীব দেখালেও টেস্টে ব্যাপারটা ভিন্ন। শচিনের ৫১টি টেস্ট শতকের চেয়ে মাত্র সাতটি শতক কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এখনো খেলা চালিয়ে যাওয়া ক্যালিস। তবে, ৩৮ বছর বয়সী ক্যালিস আদৌ আরো সাতটি সেঞ্চুরির দেখা পাবেন নাকি সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এতো রেকর্ডের যিনি মালিক তাকে প্রাপ্য সম্মানটাই জানাচ্ছে বিশ্ব। এক সময় শচিনের সাথে সেরার দৌড়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তী ব্রায়ান লারা তো একবাক্যে শচিনকেই সেরা বলে ঘোষণা করে দিলেন কদিন আগে, ‘এ ব্যাপারে আমার কোন দ্বি-মত নেই যে, ক্রিকেট ইতিহাসে অন্য যে কারোর চেয়ে সেরা ক্যারিয়ার হলো শচিন টেন্ডুলকারের।’ পরিসংখ্যানকে সামনে নিয়ে এসে লারা আরো বলেন, ‘টেন্ডুল‘কারের মতো ১৬ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করে এত বড় বড় অর্জন নিয়ে ৪০ বছরে বিদায় নেয়ার মতো কোন খেলোয়াড় আর আসবে বলে আমার মনে হয় না।’