ফেডকাপের মূল পর্বে পুলিশ

দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শান্তি রক্ষায় পুলিশের ব্যতিব্যস্ততা অনেক। হরতালের ডিউটি সেরে ফুটবল খেলাটা কঠিন, তারপরও পুলিশের কিছু সদস্যের ফিটনেস ভালো হওয়ায় তাদের নিয়ে ফুটবল ফেডারেশন কাপ নামের ফুটবল যুদ্ধে নেমেছে পুলিশ। প্রথম পরীক্ষায় পাস করেছে সার্ভিসেস এই দলটি। আবারও ফেডারেশন কাপ ফুটবলের মূলপর্বে উঠেছে পুলিশ অ্যাথলেটিক ক্লাব। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পুলিশ ২-০ গোলে বিকেএসপিকে হারিয়ে ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের চূড়ান্তপর্বে উঠে। গোল করেছেন ২৫ মিনিটে আমিরুল এবং ৩৯ মিনিটে জহিরুল। টুর্নামেন্টে খেলবে ১২টি দল। ১০টি পেশাদার লিগ থেকে রহমতগঞ্জকে পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর থেকে নেয়া হয়েছে। ১২ নম্বর দল চূড়ান্ত করার জন্য পুলিশ এবং বিকেএসপির মধ্যে বাছাই ম্যাচ হয়। সেখানে পুলিশ চূড়ান্তপর্বের টিকিট পেয়েছে। গত মৌসুমেও ফেডারেশন কাপের চূড়ান্তপর্বে খেলেছিল পুলিশ দলটি। সেবার বাছাইপর্বে যশোরে জোনাল চ্যাম্পিয়ন হয় পুলিশ। সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল বিকেএসপি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চূড়ান্তপর্বে উঠেছিল। যশোরে অনুষ্ঠিত বাছাইয়ের গ্রুপপর্বে প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে যশোর জেলাকে, ২-১ গোলে খুলনা আবাহনীকে হারিয়েছিল। আর চূড়ান্তপর্বে শক্তিশালী শেখ রাসেলের কাছে ৩-১ গোলে এবং আরামবাগের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। এই ম্যাচটা ১-১ গোলে চলছিল। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে ম্যাচ জিতে আরামবাগ। কিন্তু সেটা মনঃপুত হয়নি পুলিশ দলের কোচ সেলিম খানের। গতকাল খেলা শেষে আফসোস করে বলছিলেন, পেনাল্টি হয়েছে বাইরে বলটা টেনে ভেতরে বসিয়ে দিলেন রেফারি। ম্যাচ জিতল আরামবাগ।’ এবারও পুলিশ ফুটবল দল কঠিন গ্রুপে পড়েছে। তিন নম্বর গ্রুপে টিম বিজেএমসি আর ব্রাদার্স ইউনিয়ন হচ্ছে পুলিশের প্রতিপক্ষ। দুটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। পুলিশের চেষ্টা থাকবে ভালো খেলাটা উপহার দেয়া। কিন্তু কতটা সম্ভব তা বলা কঠিন। কারণ পুলিশের বর্তমান দলে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা মাত্রই ঢাকায় এসেছেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলেছেন। তৃতীয় গোলকিপারটি ছাড়া বাদবাকি সবাই কনস্টেবল পদে চাকরি করছেন। পেশাগত দায়িত্বটা সেরে ফুটবল খেলতে হয় বলে জানা গেছে। সেলিম খান জানিয়েছেন, তাদের আন্তঃ সার্ভিসে খেলা হলে সেখান থেকে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। এবার ১৫ দিনের অনুশীলন করে মাঠে নেমেছে পুলিশের ফুটবলাররা।