মাষকলাই চাষ করে অন্য ফসলের ক্ষতিপূরণ
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০৪
ঠাকুরগাঁওয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে মাষকলাই চাষ। মাষকলাই চাষ করে কৃষকরা বাড়তি আয় করে অন্য উত্পাদিত ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে। গত বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৫২৩ হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষ হলেও এ বছর চাষ হয়েছে ৬৬০ হেক্টরে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রবি ও খরিপ উভয় মৌসুমেই মাষকলাই চাষ করা যায়। ডাল ছাড়াও পাপড় ও দৈবড়া তৈরিতে মাষকলাই এর ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে। জনপ্রিয় খাবার হালিম তৈরিতেও মাষকলাইয়ের তুলনা হয় না। সবুজ সার ও পশু খাদ্য হিসেবেও মাষকলাইয়ের চাষ হয়ে থাকে। বীজ বপনের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে ফসল পরিপক্ক হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া মাষকলাইয়ের বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। একক বা মিশ্র ফসল হিসেবে এর চাষ করা যায়। চাষ দিয়ে জমি তৈরি করে শেষ চাষের সাথে হেক্টর প্রতি ৪৫-৫০ কেজি ইউরিয়া, ৮৫-৯০ কেজি টিএসপি, ৩৫-৪০ কেজি এম,পি সার ও ৩৫-৪০ কেজি মাষকলাইয়ের বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। রবি মৌসুমে আমন কাটার পরপর ও খরিপ মৌসুমে ফাল্গুনের মধ্যভাগ হতে শেষ পর্যন্ত এবং ভাদ্র মাসের ১৫ দিনের মধ্যে মাষকলাই বপন করা হয়। তবে রবি মৌসুমের তুলনায় খরিপ মৌসুমে আগাছার প্রকোপ বেশি হয়। বীজ বপনের ২০ দিনের মধ্যে একবার আগাছা দমনের প্রয়োজন হয়। মাষকলাই উত্পাদনে সেচের প্রয়োজন হয় না। জাত ও মৌসুম ভেদে ৬০-১১৫ দিনে ফসল পাকে। গাছে ৯০-৯৫ ভাগ শুটি পাকলে শুটি সংগ্রহ করে ৩-৪ দিন রোদে শুকিয়ে লাঠির সাহায্যে শুটি হতে বীজ আলাদা করা হয়। পরে বীজগুলোকে পরপর কয়েকদিন রোদে শুকিয়ে ৮-১০ ভাগ আর্দ্রতায় সংরক্ষণ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ না ঘটলে হেক্টর প্রতি ১-৫ টন বীজ পাওয়া যায়। কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, অন্য ফসল উত্পাদন করে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষকের লোকসান গুণতে হচ্ছে। তাই লোকসান কমিয়ে আনার জন্য বাড়তি ফসল হিসেবে মাষকলাই চাষ করেছি।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, পতিত জমি ফেলে না রেখে ডাল জাতীয় ফসল মাষকলাই চাষ করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগও মাষকলাই চাষে কৃষকদের উত্সাহিত করছে।