বরিশালে বিএনপির বিক্ষোভ ভাংচুর, পুলিশের গুলি
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৪
মহাজোটের শরিক সাবেক এরশাদের জাতীয় পার্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে সরকার গঠনের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার নগরীতে কালো পতাকা ও কাফনের কাপড় নিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি। বিক্ষোভ শেষে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। এসময় পুলিশের সাথে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় বোমার বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিবর্ষণের কারণে নগর জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকাল সাড়ে ৫টায় নগর বিএনপি’র সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি মেয়র আহসান হাবিব কামালের নেতৃত্বে ১৮ দলীয় নেতা-কর্মীরা কালো পতাকা ও কাফনের কাপড় নিয়ে নগরীতে বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে এরশাদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে পুনরায় সেখানে এসে সমাপ্ত হয়। অশ্বিনী কুমার হলের ভিতর প্রয়াত আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন জুম্মান স্মরণে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন চলছিলো। মুহূর্তের মধ্যে মিছিলে অংশ নেয়া যুবদল-ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা যানবাহন ও সড়ক দ্বীপের স্থাপনা ভাংচুর শুরু করে। পুলিশ বাধা দিলে তাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে মিছিলকারীরা পুলিশকে ধাওয়া করে গীর্জামহল্লা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানেও বিক্ষোভকারীরা ভাংচুর চালায়। বিক্ষোভে অংশ নেয়া অপর একটি গ্রুপ অশ্বিনী কুমার হলের সামনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় সদর রোড ও গীর্জা মহল্লাসহ আশ-পাশের এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে।
কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত পুলিশ এনে সেখানে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। গ্রেফতার করা হয় এক যুবককে। তবে অশ্বিনী কুমার হলের ভিতরে শান্তিপূর্ণ ভাবেই এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন জুম্মানের স্মরণে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে সরোয়ার ও কামালসহ বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।