আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশের গুলি
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৭
শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা
ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবি
ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার ১১৪ টাকা করার দাবিতে গতকাল সোমবার আশুলিয়া ও সাভার শিল্পাঞ্চলে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে শতাধিক শ্রমিক। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোঁড়ে। শ্রমিকরাও জবাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, টায়ারে আগুন ও কারখানায় ভাংচুর করেছে। ২ ঘণ্টা চলা সংঘর্ষে পুরো আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে আশুলিয়ার জামগড়া, জিরাবো, ঘোষবাগ, ইউনিক, গোরাট, শিমুলতলা, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, পুকুরপাড়সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক হাজার শ্রমিক সকালে কারখানায় এসে কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। সকাল ৯টার দিকে তারা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে এবং মহাসড়কের পাশে কয়েকটি কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকটি রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় জনি (৭) নামের এক পথচারি শিশু, বাচ্চু, আফজালসহ ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়। আহত শ্রমিকদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত এএম ডিজাইন গামেন্টর্স-এর শ্রমিক বাবুল হোসেনকে (২৬) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় এ সময় জামগড়া এলাকার স্টারলিংক, এএম ডিজাইন, পলমল, হলিউড গার্মেন্টস, সেতারা ফ্যাশন, এনভয়, মেডলার, নেক্সট কালেকশন, দি রোজ, উইন্ডিসহ আশেপাশের শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভার এবং আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সাভার-আশুলিয়া গার্মেন্ট মালিক সমিতির আহবায়ক সালাম মুর্শেদী জানান, শ্রমিকরা অযৌক্তিক আন্দোলন বন্ধ না করলে তাদের পক্ষে আর কারখানা চালানো সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই শ্রমিক অসন্তোষের পিছনে স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন রয়েছে।
এদিকে, সাভারের হেমায়েতপুরে স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টের শ্রমিকরা একই দাবিতে বিক্ষোভ করলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ ঘটে। এতে আহত হয় অন্তত ১০ জন। এ সময় কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের দাবিগুলো হলো—সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৮ হাজার ১১৪ টাকা করা, পহেলা নভেম্বর থেকে তা কার্যকর করা, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা, ঈদ বোনাস ও ছুটির টাকা যথা সময়ে প্রদান করা, শ্রমিক ধর্মঘটে কারখানা বন্ধ থাকা সময়ের জন্যও তাদের হাজিরা প্রদান, হাজিরা বোনাস ৫০০ টাকা করা ইত্যাদি।