‘বাধ্য হয়ে মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছি’

এতোদিন ধরে বলে আসা সব কথা থেকে সরাসরি ঘুরে গিয়ে মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির (জাপা) আরো সদস্যের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছেন এরশাদ। বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর সঙ্গে রবিবার রাতে বৈঠককালে এরশাদ বলেছেন ‘আমি যেতাম না, বাধ্য হয়ে মন্ত্রিসভায় যাচ্ছি। কিন্তু এটাই শেষ নয়। এটা একটি কৌশল মাত্র। সময়মতো আবার বেরিয়ে আসবো।’ আর গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘দেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আমরা মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এদিকে নির্বাচনের দুই মাস আগে পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভায় জাপার ছয় সদস্যের যোগদান এবং এরশাদ নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় দলটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একপক্ষ খুশি, আরেক পক্ষ সংক্ষুব্ধ। ক্ষুব্ধ অংশের নেতা-কর্মীরা গতকাল এরশাদের সংবাদ সম্মেলনের পরপরই একাধিক স্থানে মিলিত হয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন। যারা এরশাদের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তারা অনেকেই দেখা করেছেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদের সঙ্গে। অনেক রাত পর্যন্ত বিভিন্ন তত্পরতা চলে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জাপায় ভাঙ্গন আসন্ন। যে কোন মুহূর্তে এরশাদকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন ঘোষণা দিতে পারেন ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের নেতৃত্ব। কাজী জাফরের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া জাপার এক যুগ্ম-মহাসচিব ইত্তেফাককে বলেন, ‘নিজের, পরিবারের ও কয়েকজনের স্বার্থ রক্ষা করতে এরশাদ দলকে বিক্রি করে দিয়েছেন। রবিবার পর্যন্ত এরশাদ যেসব কথা বলে আসছিলেন, সোমবার সেখান থেকে ইউ-টার্ন নেয়ায় আমরা লজ্জার মধ্যে পড়েছি, এলাকার লোকজন ও নেতা-কর্মীরা হাসাহাসি করছেন। এ অবস্থায় আমাদের বিকল্প ভাবতে হচ্ছে।’