কবি নজরুল সরকারি কলেজ
পুরনো ঢাকার বিদ্যানিকেতন
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:০৬
ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ অঞ্চলে যে কয়েকটি সরকারি কলেজ আছে সেগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে কবি নজরুল সরকারি কলেজ। সবুজ মাঠ আর গাছগাছালির ছায়াঘেরা শ্যামল চত্বরের এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ক্যাম্পাস। সেই প্রিয়তাকে নতুন আঙ্গিকে পূর্ণতা দিয়েছে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা।
১৩৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ কলেজটি প্রথমে মাদ্রাসা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রছাত্রীদের চাহিদার আলোকে একাদশ-দ্বাদশ, স্নাতক (সম্মান), মাষ্টার্স (প্রথম ও শেষ পর্ব)-এর কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে কলেজটি স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ১৭ বিষয়ে পাঠদান করে যাচ্ছে। বিষয়গুলো হলো— বাংলা, ইংরেজি, ইসলামি শিক্ষা, আরবি, ইতিহাস, ইসলামি শিক্ষা, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, পদার্থ, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ও গণিত। এছাড়া মাষ্টার্স প্রথম পর্বে পাঠদানের বিষয়সমূহ হচ্ছে— বাংলা, ইসলামি শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা ও হিসাববিজ্ঞান এবং শেষ পর্বের বিষয়সমূহ হচ্ছে— বাংলা, ইংরেজি, ইসলামি শিক্ষা, আরবি, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান।
বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস. এম শফিকুল ইসলামের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাষ্টার্স পর্বের আরও কিছু নতুন বিষয় খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জানান, আমরা নতুন আরও কিছু বিষয় (মাষ্টার্স পর্ব) খোলার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি আগামী সেশন থেকেই আমরা কোর্স চালু করতে পারব। তাছাড়া আমরা স্নাতক প্রথমবর্ষের ভর্তির জন্যও আসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে আমাদের ১৭৪৫টি আসন আছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সাড়া পেলে আমরা প্রায় ২৫০টি আসন বৃদ্ধি করতে পারব।
তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, কলেজে শিক্ষক সংকট চলছে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৮টি পদের শিক্ষক কম আছে। তাছাড়া ক্যাম্পাসের পরিধিরও বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে আরও কিছু অভাব ও সীমাবদ্ধতার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রাকিব হাসান সোহেল ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ছাত্র মিরাজ অভিযোগ করেন, আমরা হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ কলেজে অধ্যয়ন করছি। প্রচুর ছাত্র এমনকি ছাত্রীরাও অনেক দূর থেকে এ ক্যাম্পাসে যাতায়াত করে। আমাদের যাতায়াতের জন্য কোনো পরিবহন সুবিধা নেই। এমনকি শিক্ষক এবং অধ্যক্ষের জন্যও কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা বলেন, আমাদের একটি হলে মাত্র ১০০ জন ছাত্রের আবাসন সুবিধা আছে। ছাত্রীদের জন্য তাও নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রী এসে অধ্যয়ন করে। কিন্তু আবাসন সুবিধা না থাকায় তারা নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই কলেজটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন করছে। ১০১ জন শিক্ষক আন্তরিকতার সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। প্রায় ৪০ হাজার বই নিয়ে একটি লাইব্রেরী, কম্পিউটার ল্যাব এবং প্রায় ৩ হাজার বিভিন্ন জার্নাল আছে প্রতিষ্ঠানটিতে। একাডেমিক ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এই ধারাবাহিকতার উন্নয়নের জন্য সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টি আকর্ষণ আশা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।