‘মাটির নিচে গোপন পরমাণু স্থাপনা তৈরি করছে ইরান’

ইরান মাটির নিচে গোপনে একটি পরমাণু স্থাপনা গড়ে তুলছে। আনবিক বোমা তৈরির জন্য বেশ কয়েকটি গোপন স্থানের মধ্যে এটি একটি। ইরানের একটি নির্বাসিত বিরোধী গোষ্ঠী ‘দ্য ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেসিসটেন্স অব ইরান’ (এনসিআরআই) সোমবার এ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এ গ্রুপটিই ২০০২ সালে নাতাঞ্জ এবং আরাক এ ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের কথা ফাঁস করেছিল। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বিশ্ব শক্তিকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, তাদের অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় ছয় বিশ্বশক্তির প্রথম দফা আলোচনার পর ২০ নভেম্বরে পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে দেশটির নতুন এই গোপন স্থাপনা গড়ে তোলার খবর এল। ইরানে গত জুনে মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট রুহানির জয়ের পর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা জেগে উঠে। তবে বৈঠকের আগে রুহানি জানিয়েছেন, বিশ্বশক্তির ইরানের কাছে বেশি কিছু দাবি করা ঠিক হবে না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সাথে আলোচনাকালে তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি সমঝোতার প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে। তিনি বলেন, উভয়পক্ষ লাভবান হয় এমন একটি সমঝোতা আমাদের কাম্য। এর আগে তিনদিনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক কোন সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। আরাকে ভারি পানির রিঅ্যাকটর বসানোর জন্য ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার প্রস্তাব করে ফ্রান্স অন্যদিকে পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করে বিশ্বশক্তির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দাবি করে ইরান। আর ঠিক এরকম একটি সময়েই এনসিআরআই বলছে, ইরানে তাদের সংগঠনের সদস্যরা দেশটির পরমাণু প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত নতুন এবং গোপন একটি স্থানের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছে। তবে সেই স্থানে কি ধরনের পারমাণবিক কর্মসূচি চলছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি তারা। এনসিআরআই এর সংগৃহিত সুনির্দিষ্ট কয়েকটি তথ্যানুযায়ী, ইরান তাদের পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য গোপন স্থান বেছে নিয়ে সেখানে কাজ চালাচ্ছে।