মু খো মু খি
আমি সেই ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠতে চাই
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৮
নায়করাজ পুত্র সম্রাট। সম্প্রতি তার বাবার পরিচালনায় ‘আয়না কাহিনী’ মুক্তি পেয়েছে। ছবি নিয়ে নিজস্ব আলোচনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নিয়ে স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর কাছে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তারিফ সৈয়দ
তরুণ চলচ্চিত্র অভিনেতা সম্রাট, নায়করাজের পুত্র। তবে এই পরিচয়টা অনেক গর্বের হলেও সচেতন কেউই হয়তো এতে সীমাবদ্ধ হতে চান না। তাই নিজেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যে প্রস্তুত করতেই সম্রাট টানা তিন বছর কাজ করেননি নিজেকে গড়ে তোলার জন্য। দীর্ঘদিন পর এবার বাবা নায়করাজের পরিচালনায় ‘আয়না কাহিনী’ চলচ্চিত্রে কাজ করলেন। তবে এখানেও বাধ সাধলো রাজনৈতিক এই অস্থির সময়। সম্রাট নিজেই বললেন এই সময়টাই আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নায়করাজের নির্দেশনায় কাজ করার অভিজ্ঞতাটা কেমন?
বাবার সেটে একটা বাদশাহী ব্যাপার থাকে। সব কিছু সিনেমার ভাষায় তৈরি। পুরো ইউনিট যেন সনাতনী চলচ্চিত্রের কথায় চলে। অন্য রকম আনন্দ। আমি অবশ্যই লাকি যে, আমি তার সন্তান। নইলে নায়করাজের পরিচালনায় এমন চরিত্র আমি কোথায় পেতাম বলুন।
কিন্তু এই যে বাড়তি প্রাপ্তির পাশাপাশি কি একটা আলাদা চাপ থাকে আপনার ওপরে? সবাই বড় বড় চোখ করে খোঁজে, দেখা যাক নায়করাজের ছেলে কী করল এবার?
হাহাহাহা... সেটা তো থাকেই। এটাও ভালোর জন্যই। প্রেসার ছাড়া ভালো কিছু বের হওয়া কঠিন। আমি সেই প্রেসারেই ভালো কিছু দেখাতে চাই।
বাবার পরে এবারে বড় ভাই বাপ্পারাজের পরিচালনায় ‘বেঈমান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন।
এবারের প্রস্তুতি কেমন?
আসলে এই আইডিয়া ও পরিকল্পনা আমারই ছিল। আমিই বাবাকে বলেছি, ছবিটি রিমেক করতে চাই এবং সেটা ভাইয়াই করুক। কারণ ‘বেঈমান’ ছবিটি বাবার আমলের গল্প। সেটাকে একটা আধুনিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই গত্বাঁধা গল্পে আমরা থাকব না আশা করছি। বাবার পরে এবারে ভাইয়ার চলচ্চিত্র নিয়ে আমি আরও আশাবাদী।
গত্বাঁধা গল্পের কথা যে বললেন, সেখানে বলি সাম্প্রতিক সময়ের চলচ্চিত্রে বেশির ভাগই তো নকল আর দুর্বল গল্পের ছবি হিসেবে অভিযুক্ত। তরুণরাও এই একই পথে হাঁটছে। আপনার কী মনে হয়?
আমিও একমত। আমি চলতি কয়েকমাসে যে কটি চলচ্চিত্র দেখেছি সবকটিতে দেখলাম হলের মানুষ আগে থেকে গল্প বলে দিচ্ছে অর্থাত্ ছবির গল্প সবার জানা—এরকম ছবি করে লাভ কী? আমরা আমাদের এই ‘বেঈমান’ চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট নিয়ে ছটকু আহমেদের সাথে টানা দুই-তিন সপ্তাহ বসেছি। তবেই চূড়ান্ত করেছি।
এখন আসি আপনাদের কো-আর্টিস্টদের প্রসঙ্গে। কেমন মনে হচ্ছে। ছোট পর্দার অনেকেই অভিনয় করছেন। তারা চলচ্চিত্রের ব্যাপারে কতটা সিরিয়াস বলে মনে করেন?
আমি মনে করি আমিও একেবারে নতুনদের পর্যায়ে আছি। তবু বলি। যেমন আমি বলব নতুনরা অনেকেই বই পড়ে না। ভাবে না। গল্প পড়তে চায় না। বিখ্যাত গল্পকার, ঔপন্যাসিকদের নাম জানে না। আমি আমার কো-আর্টিস্ট আলিসাকে বলেছি, নানান ধরনের গল্প পড়। নইলে তোমার ভাবনার আকাশ খুলবে না। একইভাবে আমি নিজেও এটা মেনে থাকি। সেভাবে চলার চেষ্টা করি।
কিন্তু এরপরও সেভাবে বড় বটবৃক্ষের নিচে খুব বেশি বেড়ে ওঠা দুরূহ বা অনেক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয় সেটা। এ ছাড়া আমাদের দেশে এখনও সেই অর্থে তরুণদের ভেতরে নায়কদের আলাদা একটা ধরন তৈরি হয়নি। ছবিগুলো এখনও ধরন বিভাগে বের হচ্ছে না।
হ্যাঁ, এটা আমিও স্বীকার করি। কিন্তু সময় ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করে তো লাভ নেই। আর আমিও চাই আমার ছবির একটা প্যাটার্ন থাকুক। আমাদের দেশে রোমান্টিক-অ্যাকশন হিরোর খুব অভাব। আমি সেই পথেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আপনার কথামতো আমি সেই ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠতে চাই।