অ্যাশেজ সিরিজ শুরু কাল থেকে
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২০
কেভিন পিটারসেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া চলতি অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টটির মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন। তিনি হবেন ইংল্যান্ডের হয়ে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলক অর্জনকারী দশম ব্যক্তি। যদিও বলাবলি হচ্ছিল যে, পিটারসেন এবারের অ্যাশেজ সিরিজের পর অবসর নিতে পারেন। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, ২০১৬ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে চান।
দু’দেশের মধ্যকার এবারের সিরিজটি ২০০৫ সালেরটির মতোই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। যদিও ইংল্যান্ডকে এ সিরিজেও ফেবারিট মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ওয়ার্নের মতে, ব্রিসবেন থেকেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়রা আগ্রাসী হয়ে খেললে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে।
এদিকে টেস্টটি শুরুর প্রাক্কালে ব্রিসবেনের বিখ্যাত টেস্ট ভেন্যু গাব্বায় এক সংবাদ সম্মেলনে পিটারসেন নিজের ক্যারিয়ারের ভুলভ্রান্তি থেকে শুরু করে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথাও জানান। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নিলেও ইংল্যান্ডের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা পিটারসেন জানান, ক্যারিয়ারে তার অনেক অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে। টেস্টে ১০,০০০ রানের ফলকে পৌঁছাতে আগ্রহী পিটারসেনের বর্তমান সংগ্রহ ৭,৮৮৭ রান। তাছাড়া ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপ জয় ও মাতৃভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট শতক পেতে মরিয়া বলেও জানান তিনি।
গত বছর সে সময়কার ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রসসহ সতীর্থদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর কারণে পিটারসেনকে সাময়িকভাবে দলের বাইরে রাখা হয়েছিল। পিটারসেন ইংল্যান্ড দলের সংস্কৃতি অনেক শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেন এবং ব্রিসবেনে স্ট্রসের সাথে এ সপ্তাহে রাতের খাবার খেয়েছেন বলেও জানান।
ইংল্যান্ডের অন্যতম প্রধান এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমার সামর্থ্য নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। একজন দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে ইংল্যান্ডে আসায় আমাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছিল। আমার আজকে যা অর্জন তা ওই এককেন্দ্রিক মানসিকতার জন্যই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাইনি মানুষ আমাকে ঔদ্ধত্য ভাবুক। অনেক বড় মাপের ক্রিকেটারদের মাঝে এমন বিশেষ কিছু থাকে যা তাদের সেরা হিসেবে তৈরি করে বলে আমি মনে করি। যেটিকে আমি বলি বিশ্বাস। কিন্তু মানুষ এটিকে মনে করে হঠকারিতা।’
তবে আসন্ন সিরিজে আমি ও আমার সতীর্থদের মাঝে কোন ধরনের দূরত্ব নেই। তিনি ভুলের মধ্য থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করছেন বলেও জানান এবং বলেন, সচরাচর মানুষ যে ভুল করে সেগুলোর সাথে আমার ভুলটির খুব বড় ধরনের পার্থক্য নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা একসাথে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। সবারই ভালো সময় ও খারাপ সময় আসে। আমরা সবাই চলার পথে ভুল করে থাকি।’