আজ কবি সুফিয়া কামালের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৯
বাংলাদেশে নারী জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে একটি অভিজাত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সুফিয়া কামাল ছিলেন মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে এবং যাবতীয় অন্যায়, দুর্নীতি ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন সমাজসেবী ও নারীনেত্রী। তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বাংলার মানুষ তাকে জননী সাহসিকা উপাধিতে ভূষিত করে।
বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে তাকে প্রথম রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। শোক বাণীতে তিনি বলেন, আজীবন সংগ্রামী এই মহীয়সী নারী বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রগতিশীল সংগ্রামসহ শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে যে ভূমিকা রেখেছিলেন তা আজো আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর কবি সুফিয়া কামালের প্রতিবাদী কণ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সংগঠিত হতে নবপ্রেরণায় উজ্জীবিত করেছিল। সুফিয়া কামাল যে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেখানে নারী শিক্ষাকে প্রয়োজনীয় মনে করা হত না। মাত্র বারো বছর বয়সে সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী সাহিত্য পাঠে তাকে আগ্রহী করে তোলেন।
সুফিয়া কামাল ছিলেন বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক। ১৯৪৭ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ (বর্তমানে মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছায়ানটের সভাপতি ছিলেন।