চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে বাসা-বাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না। সরবরাহ লাইনে গ্যাসের প্রেসার কমে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মিটমিট করে জ্বলছে চুলা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে গৃহিণীরা। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানীর কর্মকর্তারা জানান, সিইউএফএল সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেয়ায় সংকট প্রকট হয়েছে। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ বাড়েনি। চরম গ্যাস সংকটের মধ্যে প্রচুর গ্যাস চুরি হচ্ছে। সীতাকুন্ড এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে সিলিন্ডারে করে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্যাস অফিসের কন্ট্রোল রুম জানায়, নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আবাসিক গ্রাহকরা ফোন করে গ্যাস সংকটের অভিযোগ করছেন। অনেকের চুলা একেবারেই জ্বলছে না। সকাল ৯টা থেকে গ্যাস স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। একইভাবে হোটেল, রেস্তোরাঁও গ্যাস সংকটে পড়েছে। ফলে গ্রাহকরা কেরোসিনের চুলা বা কাঠের চুলার মাধ্যমে রান্নাসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন। এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানীর জিএম (অপারেশন) প্রকৌশলী শহীদ আলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘কাফকো ও সিইউএফএল সার কারখানা দু’টি একসাথে চালু থাকার কারণে গ্যাস সংকট বেড়েছে। সরবরাহ লাইনে প্রেসার কমে যাওয়ায় আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সংকট কবে নিরসন হবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ গ্যাস অফিস জানায়, চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রাপ্ত গ্যাসের মধ্যে কাফকো ও সিইউএফএল’কে দৈনিক প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিতে হয়। বাকি গ্যাস শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকদের সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। সার কারখানা দু’টিতে গ্যাস সরবরাহ দেয়ার কারণে বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্র রাউজান, শিকলবাহায় অবস্থিত চারটি ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। একাধিক গ্রাহক ও গ্যাস অফিসের লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সংকটের মধ্যে প্রচুর গ্যাস চুরি হচ্ছে। সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস বিক্রি ও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে দেদার চলছে গ্যাসের অবৈধ বাণিজ্য। বিশেষ করে রি-রোলিং মিল, সিমেন্ট কারখানা, লবণ মিল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি গ্যাস চুরি হচ্ছে। সীতাকুন্ড এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রচুর গ্যাস চুরি হচ্ছে।