আমলাদের হাতে রাখতেই সংশোধিত দুদক বিল পাস :টিআইবি

নির্বাচনকালীন সময়ে আমলাদের হাতে রাখতেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশোধনী বিলটি পাস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক সরকারই শেষ সময়ে এসে আমলাদের সন্তুষ্ট করতে চায়। রাজনীতিকরা ভাবেন নির্বাচনকালীন সময়ে আমলারা দক্ষতা দিয়ে তাদেরকে আবার ক্ষমতায় আনতে পারেন। এজন্য আমলাদের সুরক্ষা করতে এধরনের সংশোধনী আনা হয়েছে বলে টিআইবি মনে করে। আইনটিতে সম্মতি না দেবার জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট গত ১৭ নভেম্বর টিআইবি আবেদন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও টিআইবির উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংশোধিত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনটির ৩২(২) ও ৩২ক ধারার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া ও এ সংশোধনীর মর্মার্থ এক কথায় অসাংবিধানিক, বৈষম্যপরায়ণ, প্রতারণামূলক, আত্মঘাতী এবং গভীরভাবে হতাশাব্যঞ্জক। বিলটি ষড়যন্ত্রমূলক। এ বিল পাস হওয়ার দায় প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারবেন না। জাতীয় সংসদে পাসকৃত বিলটির উল্লেখিত ধারায় “জজ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সরকারি কর্মচারীর” বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়েরের পূর্বে সরকারের কাছ থেকে পূর্বানুমতির বিধান দুদকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১১৫ বছরের পুরনো ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯৭ এর প্রয়োগ দুদক আইনে অপরিহার্য করায় ওইসব পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পূর্বে সরকারের পূর্বানুমতির প্রমাণ ছাড়া কোন আদালতে কোন দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিতে পারবে না। আইনের এই বিধানটি অসাংবিধানিক। সুলতানা কামাল বলেন, দুদক আইনের সংশোধনীর প্রক্রিয়ার সাথে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকেছেন তাদের সাথে কোন আলোচনা বা যোগাযোগ না করে পুরো বিষয়টি গোপন রেখে, সংসদে পর্যাপ্ত বিতর্কের সুযোগ না রেখে কণ্ঠভোটের জোরে এবং জনমত ও জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে বিলটি পাস করা হয়েছে। যারা এই অপকর্মের সাথে যুক্ত তারা আর যাই হোক, সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারেন না, জনগণের তো নয়ই।