সাফল্যের পথে
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২৪
এই সময়ের ব্যস্ততায় নিজেকে কিভাবে বিশ্লেষণ করছেন তাই নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন
আশীষ সেনগুপ্ত
ছোটবেলায় মেয়েটি ছিল অনেক ডানপিটে। নরসিংদি শহরের নিজের এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতো। পড়াশোনার চেয়ে যেন দুরন্তপনায় ছিল তার বেশি ভালো লাগা। স্কুলেও দুষ্টামির জন্য শিক্ষকদের অনেক বকা খেতেন। বাসার লোকজনসহ স্কুলের শিক্ষকরাও তাকে নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। তাদের চিন্তা একটাই—বড় হয়ে মেয়েটি কী হবে? অথচ স্কুলের চৌকাঠ পেরোনোর পর মেয়েটি হয়ে গেল অনেক শান্ত। দুরন্তপনার গল্প ছাপিয়ে নিজেকে মেলে ধরলেন মিডিয়ায় ২০০৬ সালে। রেদওয়ান রনির ধারাবাহিক নাটক ‘লাকি থারটিন’-এ অভিনয়ের মাধ্যমেই ছোটপর্দায় তার অভিষেক। জীবনের প্রথম নাটকে সাবলীল অভিনয় দিয়ে তিনি দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর তার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যোগ হয় বেশকিছু মানসম্পন্ন নাটক। সেগুলোর মধ্যে হুমায়ুন সাধুর ‘দরিশন’, সাইফুল ইসলাম মান্নুর ‘গরিবের কপালে শান্তি নাই’, আশুতোষ সুজনের ‘ম্যানপাওয়ার’, মুরাদ পারভেজের ‘মানবজমিন’ উল্লেখযোগ্য। শুধু অভিনয় নয়, মডেলিংয়েও তার পারফর্মেন্স অনেক ভালো। তার উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনচিত্রের মধ্যে রয়েছে গোলাম হায়দার কিসলুর নিদের্শনায় ‘হুইল পাওয়ার হোয়াইট’, মাসুদ জাকারিয়া সাবিনের নির্দেশনায় ‘প্রাণের ফ্রুট মিল্ক ড্রিঙ্ক’, অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় ‘ফ্রুটিকা’, ওয়াহিদ তারেকের নির্দেশনায় জনসচেতনতামূলক ‘মায়ের দুধের বিকল্প নেই’, ‘গ্রামীণ ফোন’, আন্তর্জাতিক মা দিবসের টিভিসি ও গাড়ির সিটবেল্ট নিয়ে জনসচেতনামূলক বিজ্ঞাপনচিত্র। সেই সাথে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও প্রিন্ট মিডিয়ায় মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ফাইভস্টার হোটেল রেডিসন ও বিশ্বেও স্থানীয় ব্যাংক এইচএসবিসি-এর ব্র্যান্ড মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে ফ্রেশ মিল্ক ও টুডে টি-এর দুইটি নতুন বিজ্ঞাপনচিত্র। এগুলোতে মৌরীর সাবলীল পারফর্মেন্স সবার নজর কাড়ে। এ প্রসঙ্গে মৌরী বলেন, ‘এই বিজ্ঞাপনচিত্রগুলো প্রচার হওয়ার পর আমি সবার কাছ থেকে অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি।’ এ ছাড়া হাতে রয়েছে আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনটিত্রের কাজ। এখন মৌরীর সময় কাটছে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয়ের কাজ নিয়ে। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার সাতটি ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো—এটিএন বাংলায় সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘ঠিকানা জানা নেই’ ও মোহন খানের ‘নীড় খোঁজে গাঙচিল’, বৈশাখী টিভিতে সাজ্জাদ হোসেনের ‘সংঘাত’ ও জাবির রাসেলের ‘ডাবল ফোর টোয়েন্টি’, আরটিভিতে লিটু করিমের ‘যৈবতী কন্যা’, গাজী টিভিতে বাবলুর ‘ওয়ারিশ’ এবং বাংলাভিশনে ‘অ-এর গল্প’। শিগগিরই প্রচার শুরু হবে এটিএন বাংলায় ধারাবাহিক নাটক ‘চক্কর’ ও বৈশাখী টিভিতে ‘পিএইচডি সালমান’। এরমধ্যে এটিএন বাংলায় সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘ঠিকানা জানা নেই’ ধারাবাহিকে তিনি সাবলীল অভিনয় করেছেন। নাটকে নিজের চরিত্র সম্পর্কে মৌরী বলেন, ‘এই নাটকের গল্পটি অনেক সুন্দর। আর এই চরিত্রটিতে অভিনয়ের অনেক সুযোগও রয়েছে।’ মডেলিং না অভিনয় কোনটি আপনার পছন্দের—এমন প্রশ্নের জবাবে মৌরী বলেন, ‘মডেলিং আমাকে চুম্বকের মতো টানে আর অভিনয় হলো ভালোবাসা। ভবিষ্যতে একজন ভালো অভিনেত্রী হতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাজের পরিবারের থেকে অনেক উত্সাহ ও সহযোগিতা পেয়েছি। সেজন্য আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি। পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া মিডিয়াতে কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। আর আমার প্রতি তাদেরও একটা আস্থা আছে। তারা ভালোভাবেই জানেন তাদের মেয়ে অভিনয়টাকে কতটা ভালোবাসে।’ তার সমসাময়িক কেউ কেউ বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজ করার ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করলেও মৌরী এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক কথাই বলেছেন। তার জবানিতে, ‘কমার্শিয়াল ছবিকে আমি পজিটিভলিই নিই। তবে আপাতত আমি এ ধারায় কাজ করছি না। হয়তো আগামীতে করতেও পারি।’