প্রতিভাময়ীর গল্প

বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে রবি থ্রিজির নতুন বিজ্ঞাপনচিত্র। এই বিজ্ঞাপনচিত্রে পারফর্ম করেছেন মডেল সম্প্রীতি। মডেলিং ছাড়াও নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন তিনি। তার বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভাবনার কথা জানাচ্ছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার মিশেলে তার চিন্তা আর ভবিষ্যতে চলার মানচিত্র। মডেলিংয়ে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল অমিতাভ রেজার হাত ধরে। যাকে বলে সৌভাগ্যময় অভিষেক। ফটোসেশন করা, ছবি জমা দেওয়া, তারপর প্রতীক্ষা—এত সব করতে হয়নি তার। যা-ই করেন না কেন, পাঁচ ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতা, আর কোঁকড়ানো চুল নিয়ে সন্তুষ্টি ছিল তার; মডেল হওয়ার স্বপ্ন ছিল না কখনও। অমিতাভ রেজাই দেখিয়েছেন সেই স্বপ্নটা। অমিতাভ রেজা তখন ওয়ারিদের একটি বিজ্ঞাপনটিত্র নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছেন। খুঁজছেন একজন নতুন মুখ। ফেসবুকে সম্প্রীতির ছবি দেখার পর অমিতাভ রেজার অনুসন্ধানী দল একদিন নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে হন্যে হয়ে খুঁজে বের করে তাকে। সেই মুহূর্তটি স্মরণে এলে আজও উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন সম্প্রীতি। তার ভাষ্যে, ‘আমি নিজেকে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির খুবই সাধারণ এক মেয়ে ভাবতাম। অনুসন্ধানী দল আমাকে যখন জানাল, অমিতাভ রেজা আপনাকে খুঁজছেন, শিগগিরই যোগাযোগ করুন—বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না! পরে অমিতাভ রেজার সঙ্গে দেখা করলে তিনি আমাকে বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে পারফর্ম করার সুযোগ করে দেন। ওয়ারিদের এই বিজ্ঞাপনটিতে হাস্যোজ্জ্বল প্রেমিকা হয়েছিলেন সম্প্রীতি। প্রথম বিজ্ঞাপনেই বাজিমাত। অভিব্যক্তি, সৌন্দর্য আর মিষ্টি হাসি দিয়ে দর্শকদের মন কেড়ে নেন তিনি। সম্প্রীতি অবশ্য পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন বিজ্ঞাপন নির্মাতাকেই। তার কথায়, ‘অমিতাভ দা খুবই চুজি, তিনি শিল্পীর ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনতে পারেন। এ ছাড়া তার নির্মাণের মুন্সিয়ানা তো রয়েছেই।’ এক বছরের জন্য ‘ফেস অব ওয়ারিদ’ হিসেবে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। এ সময় অংশ নেন আরও একটি বিজ্ঞাপনে। বর্তমানে প্রচার হচ্ছে তার বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র। এগুলো হলো—রবি ৩.৫জি (দুইটি), প্রাণ আরএফএল ওয়ারড্রোব, ফেসওয়াশ ও তিব্বত চ্যাপস্টিকের বিজ্ঞাপনচিত্র। এই বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোতে সাবলীল, প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দিয়ে দর্শকদের হূদয় জয় করেছেন তিনি। এরমধ্যে অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় রবির থ্রিজির বিজ্ঞাপনে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সম্প্রীতি বলেন, ‘আমার বিজ্ঞাপনের গল্পটি নাচের ওপর। সেখানে আমি ইন্টারন্যাশনাল নৃত্যশিল্পী হিসেবে পারফর্ম করি। কনসেপ্টা ছিল হ্যাঁ, আমি রেডি। এত বছর থেকে প্র্যাকটিস করে আমি রেডি এবং আমি জ্বলে উঠেছি আপন শক্তিতে। রিহার্সেলে সবাই বসে থাকলেও আমি রিচার্জ করে আবার প্র্যাকটিস করতে থাকি। সবমিলিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো। আর অমিতাভ ভাইও সুন্দর করে কনসেপ্টা ক্যাপচার করেছেন।’ পড়াশোনা ও মডেলিংয়ের সঙ্গে সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন নাচ। নাচ যেন সম্প্রীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নাচের সঙ্গে সখ্য সেই আড়াই বছর বয়স থেকে। ভরতনাট্যম শেখেন বেলায়েত হোসেনের কাছে। কত্থক শিখছেন শিবলী মোহাম্মদের কাছে। বিটিভির তালিকাভুক্ত হয়েছেন ২০০৩ সালে। নৃত্য পরিবেশন করেছেন প্রায় সব টিভি চ্যানেলে, দেশ-বিদেশের বহু অনুষ্ঠানে। নৃত্য পরিচালনা করছেন ২০০৯ সাল থেকে। এখানেই শেষ নয়। বর্তমানে বাংলাদেশি আইডলের সাথে কাজ করছেন। সেখানে প্রতিযোগীদের নাচের গ্রুমিং করাচ্ছেন। এ ছাড়া আফসানা মিমির পরিচালনায় ‘রান’ ছবিতে নাচের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ২০০৮ সালে গুলশানে গড়ে তুলেছেন নৃত্য সংগঠন সম্প্রীতিস নিক্বণ। সেটিও চলছে পুরোদমে। ভবিষ্যতেও ভাবনার কথা জানতে চাইলে সম্প্রীতি বলেন, ‘নাচের পাশাপাশি মডেলিং করব।’