জলবায়ুর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে শাক-সবজি চাষ বিলম্বিত
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০৫
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পিরোজপুরসহ দক্ষিণের বিলাঞ্চলে কান্দিবেড় পদ্ধতির শীতকালীন সবজি চাষ বিলম্বিত হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালের পরেও হেমন্তে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় বীজতলার চারা বিনষ্ট হওয়ায় চাষিরা সময়মত শাক-সবজি চাষ শুরু করতে না পারায় এ উত্পাদন সংকট দেখা দিয়েছে। এ বৈরী অবস্থা থেকে রেহাই পেতে কান্দি চাষিরা চাষাবাদের নতুন কৌশলও নিতে শুরু করেছেন। পিরোজপুর জেলার উত্তরাংশ, বরিশালের পশ্চিম এলাকা ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা জলাভূমিভুক্ত হওয়ায় এখানে একক ও অবিচ্ছিন্ন একটি বেসিন আকৃতির বিশাল অঞ্চল জুড়ে বিশেষ ভূ-প্রকৃতি অবস্থিত। যা বিল বা নিম্নাঞ্চল হওয়ায় এখানে বছরের বেশিরভাগ সময় পানির নিচে থাকে জমি ও ফসলের ক্ষেত। এখানকার কৃষি পদ্ধতি বছরের পর বছর ধরে ব্যতিক্রমী কৃষির জন্য ভূমি ব্যবহারকারীরা স্ব-উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আসছেন। এ পদ্ধতির নাম ‘কান্দিবেড়’ পদ্ধতি। কান্দি হচ্ছে শাক-সবজি ও নির্দিষ্ট কিছু ফসল করার বেড় বিশেষ আর বেড় হচ্ছে কান্দির মাঝের নালা বা ড্রেন।
গত কয়েক বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষাকাল ও হেমন্তে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গেছে। যা এ বছর শ্রাবণ-ভাদ্র-আশ্বিন এ তিন মাসে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রকৃতির ভারসাম্যে নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। গাওখালী গ্রামের তরুণ কান্দি চাষি সোহাগ বেপারীকে (২৬) এখন ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে মাচা বাধার কাজে। অথচ এ সময় তার ফসল তোলার কথা। তিনি জানালেন, বর্ষার আগে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, লাউ, করল্লা, মরমা, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ ইত্যাদির চারা বীজতলায় তৈরি শুরু করেছিলেন বরাবরের মত। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ চারাই পচে গেছে। পলিথিনে বীজতলা ঢেকে দিলেও সামান্য রক্ষা করতে পেরেছিলেন।
মুগারঝোর গ্রামের কৃষক সংগঠক আক্তারুজ্জামান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কান্দিবেড় চাষীরা যেভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে তাতে এই এলাকায় কান্দিবেড় পদ্ধতিতে শীতকালীন শাক-সবজি চাষ কঠিন হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে কিছু চাষি বাধ্য হয়ে দেরিতে চাষ শুরু করেছেন।