দিরাইয়ে ইউপি কার্যালয় চলে চেয়ারম্যানদের বাড়িতে

দিরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বিগত পনের বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও পরিষদ কমপ্লেক্সে হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় জনসাধারণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত। অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা সদরে নিজ বাসভবনকে পরিষদের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করছেন। আইনগতভাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জনপ্রতিনিধিদের দাপ্তরিক কাজ করার কথা কিন্তু দিরাইয়ের চিত্র ভিন্ন। এখানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও কমপ্লেক্স পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারিভাবে এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে জনসাধারণকে উপজেলা সদরে ছুটে আসতে হয়। এ সময় মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। দিরাইয়ের জগদল ইউনিয়নে ৯৮ইং সালে এলজিইডি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করে। এ কমপ্লেক্সে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তার আমলে একদিনও কমপ্লেক্সে আসেননি। এ ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি যে উদ্দেশে নির্মাণ করা হয়েছে তার কোন সুফল জনগণ পাচ্ছে না। এভাবে করিমপুর, কুলঞ্জ, চরনারচর, ভাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবন থাকলেও সেখানে পরিষদের কাজ চলে না। দিরাই উপজেলা সদরে উপজেলার করিমপুর, রাজানগর ও কুলঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ নিজ বাসভবন ও দোকানে পরিষদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন গত পনের বছর। এদিকে রফিনগর, দিরাই সরম্ঙ্গল ও রাজানগর ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোন পরিষদ ভবন নেই। চরনারচর ইউনিয়নের কার্যক্রম চলছে ইউনিয়নের সামারচর বাজারে, রফিনগর ইউনিয়নের কার্যক্রম চলছে ইউনিয়নের বাংলা বাজারে, রফিনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিলেটে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, সরমঙ্গল ইউনিয়নের কার্যক্রম চলছে দিরাই পৌরসভার মধ্যে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, এ সরকারের আমলেই অফিসবিহীন ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, কেবল ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবন নির্মিত হলেই চলবে না সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ বসে কাজ করতে হবে।