সাতক্ষীরায় অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি

সাতক্ষীরা জেলা মত্স্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানকে হত্যার পর জেলা বিএনপির কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়েছে। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপি। যদিও প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাতক্ষীরায় বিএনপির ভাল অবস্থান কখনই ছিল না। গত তিন দশকের অধিকাংশ সময় দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছিল না জেলায়। ফলে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে সাতক্ষীরায় বিএনপির তেমন উল্লেখযোগ্য কোন সফলতা নেই। নির্বাচনে কেবলমাত্র তালা উপজেলা ছাড়া অন্যান্য সব জায়গায় বিএনপির অবস্থান তৃতীয় স্থানে। আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের অবস্থান সুদৃঢ় হলেও আমান নিহত হওয়ার পর এলাকায় তার ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দলীয় কোন্দল এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বিএনপির ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এদিকে আমান হত্যা মামলায় গণহারে আসামি করায় জেলার অধিকাংশ নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর পালিয়ে বেড়ানোর কারণে বর্তমানে কোনপ্রকার দলীয় কার্যক্রম না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জেলা বিএনপি। উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর মামলার প্রধান আসামি হাবিবকে তার নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরা-১ তালা-কলারোয়ায় দু’একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ছাড়া অন্য কোন কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। আমান হত্যার বিচার দাবিতে সংগ্রাম কমিটি একাধিকবার সভা-সমাবেশে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, গণঅনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। তারাসহ জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের একাংশ এই মামলায় যে কোনো মূল্যে হাবিবসহ প্রতিপক্ষের সদস্যদের বিচারের দাবি করে আসছেন। উল্লেখ্য গত ৬ সেপ্টেম্বর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দীন আলমের উপস্থিতিতে এক কর্মী সম্মেলনে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এসময় প্রকাশ্যে আমানকে পিটিয়ে জখম করা হয়। ঐদিন তাকে খুলনা নেয়ার পর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এঘটনার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। আর এরপর থেকে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বিএনপি।