এসএসসি’র ফরম পূরণে বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগ

এসএসসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও বন্ধ হয়নি অবৈধ তত্পরতা। এ বিষয়ে ইত্তেফাকের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন। রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা বোর্ড থেকে সব মিলিয়ে ১১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নানা অজুহাতে স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ টাকা আদায় করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ফির অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও প্রশাসনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, ‘ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করায় দরিদ্রপীড়িত এই জনপদের অভিভাবকদের ফরম পূরণে বেগ পেতে হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার জন্য ১ হাজার থেকে ১৩ শত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলার ৪৭টি বিদ্যালয়ে বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে ফরম পূরণের জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিচ্ছে। কোটালীপাড়া শিক্ষক সমিতির সভাপতি স্বপন কুমার দে বলেন, সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলে এ বছরে এসএসসি ফরম পূরণের জন্য যে টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে সেই নির্ধারিত টাকা নেয়া হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, কোন বিদ্যালয় যদি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করে তা হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের টঙ্গিরপাড় হাটিলা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনী (টেষ্ট) পরীক্ষায় ১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৯ জন কৃতকার্য হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে অকৃতকার্য ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফরম পূরণের সুযোগ দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও অভিভাবকরা প্রতিকার পাচ্ছেন না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় ও উপজেলার কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করতে পারবে না। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গণিত বিষয়ে শূন্য পেয়ে ৪৭ জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যগণ ও প্রধান শিক্ষক অকৃতকার্যদের কাছ থেকে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা নিয়ে বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে ফরম পূরণের সুযোগ দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ তাফাজ্জল হোসেন বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় অন্য পরীক্ষার চেয়ে একটু কঠিনভাবে নেয়া হয়। তিনি দাবি করেন যাদের ফরম পূরণ করা হয়েছে তারা সবাই এসএসসিতে উত্তীর্ণ হবে। ফরম পূরণের বেশি টাকা নেয়া প্রসঙ্গে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ ফরহাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনীয় পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় এবং অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি এলাকাবাসী আমাকে জানিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী রেজা আশ্রাফী বলেন, উপজেলার সব বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল কার্যালয়ে জমা দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছি। চিতলমারী (বাগেরহাট) চিতলমারীর বিভিন্ন স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরদিকে, অসহায় দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা এই মোটা অংকের টাকা দিতে না পেরে ফরম পূরণে ব্যর্থ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, উপজেলার ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ চলছে। এ বছর বোর্ড মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মোট ৯শ’ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৯৯০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে। কিন্তু চিতলমারী উপজেলার অধিকাংশ স্কুলে নিয়ম না মেনে ২ হাজার ৫শ’ থেকে ৪ হাজার ২শ’ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। চিতলমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. এনায়েত হোসেন মোল্লা জানান, পরীক্ষার ফির ব্যাপারে সমিতিতে কোন মিটিং বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণের চেয়েও অতিরিক্ত টাকা। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কোচিংয়ের নাম বদল করে বিশেষ ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ফরম পূরণের জন্য সর্বোচ্চ ফি বিজ্ঞান শাখায় ১১৯০, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা শাখায় ১১০০ টাকা নির্ধারণ করলেও সে নিয়ম মানা হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত লংঘন করে গৌরীপুরে ফরম পূরণে নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ/তিনগুণ অর্থ। অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পর্কে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বোর্ডের সাথে বিদ্যালয়ের সরাসরি যোগাযোগ। আমার নিকট কোন অভিযোগ নেই, পেলে ব্যবস্থা নিব। মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি-এর সাথে কোচিং ফি’সহ নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকেরা বিপাকে পড়েছে। জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক র্নিধারিত ফি মানবিক ও ব্যবসায়ী শিক্ষা শাখায় ফরম পূরণে ১১৪০ টাকা কেন্দ্র ফি ২৫০ টাকা মোট ১৩৯০ টাকা, বিজ্ঞান শাখায় ফরম পূরণ ১২৩০ টাকা কেন্দ্র ফি ২৫০ টাকা মোট ১৪৮০ টাকা। বোর্ডের র্নিধারিত টাকার সাথে ফরম পূরণের পর পরীক্ষার আগে দুই মাস কোচিং করানোর নামে জনপ্রতি মাসে কোথাও ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত ১ থেকে ২ হাজার টাকা বাধ্যতামূলকভাবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধানরা আদায় করে ফরম পূরণ করতে দিচ্ছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধানগণ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তের অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেন। চৌমুহনী (নোয়াখালী) বেগমগঞ্জ হানিফ ভূঁইয়া স্কুল এন্ড কলেজে এস এস সি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের ফলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা কলেজ ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কলেজে পুলিশ মোতায়েন করেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলাধীন সুলতানপুর হানিফ ভূঁইয়া স্কুল এন্ড কলেজে এস এস সি পরীক্ষা ফরম পূরণে বোর্ডের নির্ধারিত ফি ১২৫০ টাকার স্থলে প্রায় তিন হাজার টাকা আদায় করে আসছে। কিন্তু কলেজ থেকে দেয়া রসিদে ১৭০০ টাকা লেখা হয়। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সোমবার কলেজে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এতে কলেজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজে পুলিশ মোতায়েন করেছে। এ নিয়ে এলাকায় ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।