ওসির সামনেই দুর্দশার কথা তুলে ধরলেন চর আইচার ক্ষতিগ্রস্তরা
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৮
নৌ-বন্দর থানার ওসির সামনেই গ্রেফতার বাণিজ্যের কথা তুলে ধরলেন বরিশালের চর কাউয়া ইউনিয়নের চরআইচার ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও একই গ্রামের মুসলমান সমপ্রদায়ের লোকজন। তারা অভিযোগ করেন, পারভেজ হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।
গতকাল বুধবার সকালে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা তার কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। ওসি রেজাউল ইসলামও তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হিরন নিহত পারভেজ গাজীর পরিবারের সাথে সাক্ষাত্ করেন। এ সময় ওই বাড়ির খোকন নামের এক যুবক অভিযোগ করেন, তাকে আটক করে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ওই বাড়ির আরো কয়েকজন যুবক জানান, তারা প্রত্যেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে এলাকায় ফিরেছেন। আগের রাতে কয়েক যুবককে আটক করে নিয়ে গেলে টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয়।
পারভেজ গাজীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলার অভিযোগে করা মামলার সুনির্দিষ্ট আসামি নেই। ১৫’শ থেকে ১৬’শ জনকে আসামি করার সুযোগে নিরীহ গ্রামবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।
শওকত হোসেন হিরন ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের লোকজনের সাথেও সাক্ষাত্ করেন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি পরিদর্শনকালে সেখানে উপস্থিত নারী সদস্যরা হিরনকে জানান, পারভেজ গাজী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সোহাগ দাস ও পাভেল দাসকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাদের বাড়ি-ঘরেও হামলা-ভাংচুর করা হয়নি। অথচ যেসব নিরীহ লোকজনের ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, সেসব পরিবারের সদস্যদেরই গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আবার কারো কাছ থেকে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
শওকত হোসেন হিরন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে অবহিত করার আশ্বাস দেন। তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয়ার আশ্বাস দেন। এর আগে তার স্ত্রী জেবুনেচ্ছা আফরোজ ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ অনুদান দেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের তদন্ত টিম গতকাল সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম গতকাল বিকেলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে জানান, হিন্দু ও মুসলমান সমপ্রদায়ের পুরুষ সদস্যদের গ্রামে ফিরিয়ে এনে পুনরায় সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি পুনঃস্থাপনের জন্য তারা নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছেন।
অপরদিকে নাগরিক প্রতিনিধি দলের সাংবাদিক সম্মেলনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি সৈয়দ দুলাল পুরো ঘটনায় পুলিশের কর্তব্য অবহেলাকে দায়ী করেন।
এদিকে বিভিন্ন পত্রিকায় স্কুল ঘর দখল করে পুলিশের ক্যাম্প ও শিক্ষার্থীদের গাছের নিচে পাঠদানের সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল বিকেলে স্কুল ভবন থেকে পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার জন্য তাঁবু টানানো হয়।
পুলিশ কমিশনার সামসুদ্দিন পুলিশের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে অহেতুক ঢালাও অভিযোগ করা হচ্ছে। ঘুষ বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত চর আইচা গ্রামের কলেজ ছাত্র পারভেজ গাজীকে গত ১৪ নভেম্বর জবাই করে হত্যা করা হয়। পরদিন গ্রামের নিরীহ সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাংচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়।