মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার আন্দোলনে তিনি ছিলেন দিশারী
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৯
কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় নারী নেত্রীরা বলেছেন, কবি সুফিয়া কামাল আজীবন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে পরিচালিত করার আন্দোলনে তিনি ছিলেন আমাদের দিশারী। তাই তার দেখানো পথে ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তাকে প্রকৃত সম্মান দেখানো। এসময় তারা প্রতিটি নির্বাচনের আগে সংকট সৃষ্টি না করে একটি গঠনমূলক নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য দেশের রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব হয়নি বলেই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। সম্ভব হয়নি নারীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে কবি’র ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’ এই স্মরণসভার আয়োজন করে। ‘অসামপ্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলো’— শ্লোগানকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহিলা পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সেলিনা খালেক। বক্তব্য রাখেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারপারসন মমতাজ বেগম, মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সুলতানা কামাল, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক আরোমা দত্ত, নারী মুক্তি সংসদের হাজেরা সুলতানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কবি সুফিয়া কামালের সাহিত্য থেকে পাঠ করেন কর্মজীবী নারী’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক বেবী, প্রস্তাব পাঠ করেন ‘স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টে’র চন্দন লাহিড়ি। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন মহিলা পরিষদের পরিচালক জনা গোস্বামী। সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্বপ্নীল সজীব, ইফফাত আরা দেওয়ান ও বিজন কুমার মিস্ত্রী।
মহীয়সী নারী কবি সুফিয়া কামালের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বক্তারা বলেন, সুফিয়া কামাল আমাদের সাহস, আমাদের প্রেরণা। আজ নারীরা যে এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, তা এই মানুষটিরই অবদান। তিনি ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী সকল বৈষম্যেরই বিরোধী ছিলেন। একজন সত্ ও নির্ভীক, নির্ভরযোগ্য, মানবতাবাদী ও সমাজবাদী নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন নারী আন্দোলন ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সাহিত্যিক হিসেবেও বাংলা সাহিত্যে তার অবদান ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
স্মরণসভার প্রস্তাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধীদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বর্জনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।