ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকদের সম্পর্কে কোন মন্তব্য করিনি :খন্দকার মাহবুব

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা আদালত অবমাননার নোটিসের জবাবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল বা বিচারকদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করিনি। বিচার বিভাগ ও বিচারকদের ভূমিকা না বুঝে রাষ্ট্রপক্ষ আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে। তিনি বলেন, আদালতের বিচারক কোন মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন না। তিনি থাকেন নিরপেক্ষ। মামলার বাদী, বিবাদী এবং যারা সাক্ষী দেন, তারাই ওই মামলায় সম্পৃক্ত থাকেন। বিচারক মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ শুনে তা পর্যালোচনা করে রায় দেন। ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা লিখিত বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব এসব কথা বলেছেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। দিন ধার্যের বিষয়ে আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, সকালে খন্দকার মাহবুব হোসেনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট জয়নুল আবেদিন ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে না পেরে গেট থেকে ফিরে যান। তাই প্রধান আইনজীবী না আসায় শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনালে আট সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল শুনানির জন্য ২৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন। লিখিত জবাবে খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, যে বক্তব্য দিয়েছি তা আমি বিশ্বাস করি। আমাদের দণ্ডবিধি আইনেও আদালতে মিথ্যা মামলা এবং সাক্ষী দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই ভবিষ্যতে যদি দেখা যায় যে, মিথ্যা মামলা তৈরি করে এবং মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে ট্রাইব্যুনালে কাউকে সাজা দেয়া হয়েছে, তবে অবশ্যই আইনত তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। কেননা তা না হলে দেশে আইনের শাসন থাকবে না। আমার বক্তব্য কারো প্রতি হুমকি নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত বাধ্যবাধকতা। উক্ত জবাবের আলোকে বলতে চাই, আমি ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১ (৪) ধারা অনুযায়ী কোনো হানিকর বক্তব্য দেইনি। আশা করি, ট্রাইব্যুনাল এই বক্তব্য গ্রহণ করবেন এবং আদালত অবমাননার অভিযোগ খারিজ করবেন। গত ১ অক্টোবর বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপিকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্যের প্রেক্ষিতে খন্দকার মাহবুব হোসেনের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল হয়। ঐ সাংবাদিক সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এই বিচারটি একটি প্রহসনের বিচার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। ইনশাআল্লাহ জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি ক্ষমতায় আসে, সত্যিকার অর্থে যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের বিচার হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা প্রতিহিংসার জন্য যাদের বিচার করা হয়েছে, কাল্পনিক গল্প দিয়ে যে মামলা তৈরি করা হয়েছে, অবশ্যই সেটা চলে যাবে। এ বক্তব্যের পর ৩ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানির পর ৬ অক্টোবর নোটিস জারি করে ট্রাইব্যুনাল।