সীতাকুণ্ডে বাড়ি গাড়িতে আগুন মহাসড়কে তাণ্ডব, সংঘর্ষ
চট্টগ্রাম অফিস ও সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডে জামায়াত নেতার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের পর পুরো সীতাকুণ্ড রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিজিবি, র্যাব ও পলিশের সাথে জামায়াত শিবিরের কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। জামায়াত শিবিরের কর্মীরা আওয়ামী লীগের নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাসহ ছয়টি বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জামায়াত শিবির কর্মীরা ছয় গাড়িতেও আগুন দিয়েছে। গতকাল চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম রবিবার স্ত্রীসহ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে কুমিল্লায় একটি রেস্তোরাঁ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। এ খবর সীতাকুণ্ডের জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীরা জানার পর রবিবার রাত ও সোমবার ১৪টি গাড়িতে আগুন দেয়, ভাংচুর করে এক হাজারেরও বেশি গাড়ি। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ৩০ জামায়াত শিবির কর্মীকে আটক করে।
গতাল সকালে স্থানীয় লোকজন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শেখপাড়ায় কসাইখানার পাশে একটি জমিতে গুলিবিদ্ধ একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এ সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত শিবির কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হয়। তার ভাই বেলাল উদ্দীন এসে লাশটি শনাক্ত করে। দুপুরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত আমিনের পরনে পাঞ্জাবী ও পায়জামা ছিল এবং তার মুখ ও চোখ গামছা দিয়ে বাধাঁ ছিল। তার মাথা এবং পিঠে ৪টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। গভীর রাতে তাকে হত্যা করে মহাসড়কের পাশে ফেলে দেয়া হয়েছে। সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো সীতাকুণ্ডে তান্ডব চালায় জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি অর্ধশত গাড়ি ভাংচুর ও বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ৩টি ও বানুর বাজার এলাকায় ২টি গাড়ীসহ ৬টি পন্যবাহী ট্রাকে আগুন দেয়। এসময় তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে বিকেল ২টা থেকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
বিকেল ৪টায় জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীরা বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাদাকাত উল্লাহর বাড়ি ঘেরাও করে তার বাড়িসহ আশেপাশের ১০/১২টি বাড়ীতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এছাড়া পৌর সদরের আমিরাবাদ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুল হকের বাড়িতেও হামলা চালায় তারা।
সন্ধ্যায় পন্থিছিলা এলাকায় আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ওসি এস এম বদি উজ্জামান জানান, জামায়াত নেতা আমিন গত রবিবার নিখোঁজ হন। গতকাল তার লাশ পাওয়া যাওয়ার পর তার ভাই তাকে সনাক্ত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের ভাই মোহাম্মদ বেলাল জানান, ‘কুমিল্লা থেকে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ করে। থানায় অভিযোগ দেয়ার জন্য গেলেও পুলিশ কোন অভিযোগ গ্রহণ করেনি। তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় গোয়েন্দা পুলিশেই আমার ভাইকে অপহরণের পর হত্যা করেছে।’
পৌরসভা জামায়াতের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের ছত্রছায়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই চেয়ারম্যান পরিকল্পিতভাবে আমিনকে হত্যা করেছে। চট্রগ্রাম শহরের প্যারেড ময়দানে আজ বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে পরর্বতী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
নিহত আমিনের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে সীতাকুণ্ড সার্কেল এ এস পি সৈয়দ ইকবাল আলী জানান, পুলিশ বা আইন শৃংখলা বাহিনীর কোন সদস্য তাকে আটক করেছিলো বলে তার জানা নেই।
এদিকে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজি জানান, জামায়াত শিবির ক্যাডারা তার বাড়বকুণ্ডস্থ নিজ বাড়িসহ আশপাশের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। পুরো বাড়বকু্ল এলাকায় তান্ডব চালিয়েছে তারা।
জামায়াতের উদ্বেগ
উপজেলা জামায়াতের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের হুমকি, ধমকি, গুম ও অত্যাচারে সীতাকুণ্ডের শান্তিপ্রিয় মানুষ দিশেহারা। স্বাভাবিক জীবন-যাপনের পথ প্রায় অবরুদ্ধ। সীতাকুণ্ডের বর্তমান পরিস্থিতি হিটলাটের নািস বাহিনী যুগকে স্বরণ করিয়ে দেয়। জামায়াত নেতারা এ ধরনের বর্বর, অমানবিক পরিস্থিতি থেকে জনগণকে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, জোটের নেতাকর্মীরা প্রশাসনের আইন মেনে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে। এলাকার জনগণ ইসলাম ও শান্তিপ্রিয়। তাই তারা বর্তমান খোদাদ্রোহী, ইসলাম বিদ্ধেষী, বাকশালী, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বিরোধী, গণতেন্ত্রর লেবাসে স্বৈবাচারী সরকারের জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমে আসে। এতে সরকারের কুদৃষ্টি পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনকে অব্যাহত চাপের মাধ্যমে ১৮ দলীয় জোটের শান্তিপ্রিয় নেতা-কর্মীদেরকে নিয়মিত মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানি করছে। মিথ্যা মামলার গ্রেফতারের ভয়ে নেতাকর্মী প্রায় এলাকা ছাড়া হয়েছে।