সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশ প্রেমিক জনতা ও মুক্তিবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে। দিবসটি উদযাপনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ-ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনীর ঘাঁটি মসজিদসমূহে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তোরতর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারদের সংবর্ধনা জানাবেন। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কর্তৃক ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে বৈকালিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এ সংবর্ধনায় আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পীকার, প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও সমমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ, সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণ, বিদেশি রাষ্ট্রদূতগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত থেকে দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে বলেছেন, গৌরবময় ঐতিহাসিক এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সশস্ত্রবাহিনী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর ফলশ্রুতিতে ১৬ ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। বর্তমান সরকার ১৯৭৮ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের কাজ করে যাচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠান। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা বাহিনীতে কর্মরত আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ কর্মদক্ষতা ও উঁচুমানের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনছেন। দেশের সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগেও সশস্ত্র বাহিনী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্বিধাহীনভাবে সংকট মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে।