ইবসেনের নোরা
নারীমুক্তির বিশ্বপ্রতীক
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৭
হেনরিক ইবসেন সম্পর্কে জর্জ বার্নাড শ লিখেছিলেন, ‘তিনটা বিপ্লব, ছয়টা ক্রুসেড, দুইটা বিদেশি আক্রমণ এবং একটা ভূমিকম্পের যা ফল হতে পারে, ইংল্যান্ডের ওপর ইবসেনের প্রভাব তার সমকক্ষ।’ বলাবাহুল্য, ইবসেন ইংল্যান্ডের নাট্যকার নন। বাস্তববাদী ধারার প্রবর্তক নরওয়েজিয় নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের আবির্ভাব বিশ্ব নাটকের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ইউরোপের নাট্যজগতে ইবসেন যুগ প্রবর্তক এবং বিশ্ব নাটকের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক।
প্রচলিত সমাজের নিয়ম, শাসন, সামাজিক কুপ্রথা, অন্যায়-অবিচার, জীবন ধারণার একঘেয়েমির বিরুদ্ধে ইবসেনের নাটক জ্বলন্ত প্রতিবাদ। ব্যক্তি মানুষের সংগ্রাম, সংঘাতকে এত ঘরোয়া আর নিবিড়ভাবে কেউ তুলে ধরতে পারেনি। যে কথা কেউ বলতে সাহস করেনি, যে সমস্যা মঞ্চে দেখানো প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, ইবসেন অসীম সাহসের সাথে তা-ই মঞ্চে তুলে আনলেন। সবচেয়ে বড় কথা, ইবসেনই বিশ্ব নাটকের ইতিহাসে প্রথম, যাঁর হাতে আধুনিক নারী চরিত্রের সৃষ্টি হলো।
স্বাভাবিক সংলাপ ও বাস্তবানুগ ঘটনা বিন্যাসের প্রেক্ষিতে তাঁর বিপ্লবী নাটকসমূহের জন্ম। ‘ব্র্যান্ড’ (১৮৬৬), ‘পিয়ারজ্যান্ট’ (১৮৮৬৭), ‘দ্য লিগ অব ইয়ুথ’ (১৮৬৯), ‘দ্য পিলারস অব সোসাইটি’ (১৮৭৭)-এর মতো অসাধারণ সব নাটক নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ইবসেন তাঁর চূড়ান্ত সাফল্য দেখালেন ‘অ্যা ডলস হাউস’ (১৮৭৯) রচনা করে। রচনার সাথে সাথে সারা বিশ্বে অ্যা ডলস হাউসের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ডলস হাউস নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা সারা বিশ্বে নারীমুক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।
লক্ষণীয়, ইবসেন যখন ডলস হাউস রচনা করছেন তখনো ইউরোপীয় নাট্যজগত্ খুন, হত্যা, রক্তপাত, অবৈধ প্রেম প্রভৃতিতে মগ্ন। অতি সাধারণ সংলাপ ও ঘরোয়া পরিবেশে রচিত ডলস হাউস দিয়েই ঊনবিংশ শতাব্দীর মেলোড্রামা দর্শকপ্রাণে নতুন সাড়া জাগায়।
১৮৭৯ সালের ২১ ডিসেম্বর কোপেন হেগেনের রয়েল থিয়েটারে অ্যা ডলস হাউসের প্রথম প্রদর্শনী দেখতে এসে ডেনমার্কের নাট্যকার-সমালোচক এরিখ বোই লিখলেন, ‘It is beyond memory since a play so simple in its action and so everyday in its dress made such an impression of artistic mastery—Not a single declamatory phrase, no high Dramatics, no drop of blood, not even tear: never for a moment was the dagger of tragedy raised… Every needless line is cut, every exchange carries the action a step forward, there is not superfluous effect in the whole play…’ প্রকৃতপক্ষেই ইবসেনের এই নাটক খুবই সাধারণ। তবু সাধারণ পোশাকে, সাধারণ দৃশ্যসজ্জায়, সাধারণ সংলাপে এটি একটি অসাধারণ নাটক। একটিও বাড়তি বাক্য নেই, নেই ভাষার কারিগরি, কোনো প্রকার কথিত নাটকীয়তার ভার নেই, একবিন্দু রক্তপাত তো দূরের কথা একবিন্দু অশ্রুপাতও নেই বিশ্বসেরা এই নাটকে। তবু এ নাটক অসাধারণ, অমূল্য।
এই নাটকেই প্রথম দাম্পত্য-জীবনের পাতানো খেলার ফাঁকি ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরুষশাসিত সমাজের সাথে নারী ব্যক্তিত্বের সংঘর্ষ তুলে ধরা হয়ে সুচারুভাবে। এ নাটকেই প্রথম নারী ব্যক্তিত্বের উন্মেষ, নারীর আত্মোপলব্ধি, নারীর প্রতিবাদ এবং সর্বোপরি ব্যক্তি মানুষ হিসেবে নারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নারীর প্রতি তথাকথিক করুণা মায়াকে তিনি তীব্রভাবে কষাঘাত করেছেন এ নাটকে। তিনি দেখিয়েছেন, ক্ষুদ্র গৃহকোণে অবস্থান করে সংসার করাই নারীর একমাত্র কর্ম নয়। অন্তত তার নায়িকা নোরা চায় বৃহত্তর সমাজ জীবনের মধ্যে বিকাশ ও আত্মপ্রতিষ্ঠা। পুতুলের মতো সাজানো ছক বাঁধা জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে সে। জীবনের এক ভয়াবহ সংকটকালে সে আবিষ্কার করে, ছেলেবেলায় সে ছিল তার পিতার হাতের পুতুল, পরিণতকালে এসে স্বামী-সন্তানের হাতের পুতুল। কিন্তু এইভাবে পুতুলের ভূমিকাতেই তার জীবন সমাপ্ত নয়। এই পুতুলের সংসার থেকে মুক্ত হয়ে নোরা নিজের জীবনকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নেয়। বাইরের দিকে মুখ রেখে দুহাতে পেছনের দরজা বন্ধ করে সে যখন স্বামী-গৃহ ত্যাগ করে তখন এক নতুন নারী সত্তার প্রকাশ ঘটে তার মধ্যে। পুরুষ-সাজানো এই সংসারের বিরুদ্ধে নোরার নারীসত্তার বিদ্রোহ, আত্মপোলব্ধি এবং নারী ব্যক্তিত্বের বিকাশই এ নাটকের প্রধান উপজীব্য।
নাটকের শুরুতেই আমরা যখন নোরাকে স্বামী হেলমারের সুসজ্জিত ঘরে দেখি, তখন তাকে একজন যথার্থ বুর্জোয়া নারী মনে হয়। একগাদা জিনিসপত্র নিয়ে নোরা বাজার থেকে ফিরছে, গলায় গুন গুন করে গানের সুর, বেয়ারাকে প্রাপ্যের চেয়ে বেশি বকশিশ দিচ্ছে—তার গায়ে শীতের দামি পশমি কাপড়—সব মিলিয়ে নোরা শুরুতেই একজন আদর্শ বুর্জোয়া গৃহিণী। স্বামী তাকে আদর করে কাঠবিড়ালী বা ছোট্ট গানের পাখি ডাকছে। তার স্বামীর চাকরি শুরু হবে আগামী মাস থেকে, বেতন পেতে এখনো দেরি, তবু সে খরচ শুরু করেছে। স্বামী কম খরচের কথা বললে সে ছেলেমানুষের মতো রাগ করে। স্বামী হেলমার তাকে ক্রিশমাসের জন্য বেশি টাকা দিলে সে খুশি হয়। নোরার শিশুসুলভ আচরণ এবং হেলমারের পিতৃসুলভ আচরণ, বিশেষ করে স্বামী হেলমার যখন নোরার কান ধরে আদর করে তখন, নোরার প্রতি হেলমারের আচরণ অভিভাবকত্বই প্রকাশ করে। ছেলেমেয়ের সাথে লুকোচুরি খেলা, স্বামীকে লুকিয়ে নিষেধ সত্ত্বেও ম্যাকারনি খাওয়া প্রভৃতি আচরণে নোরাকে একজন রয়স্ক শিশু বলে মনে হয়। কিন্তু এই দৃশ্যেই নোরা মিসেস লিন্ডের কাছে বলে যে, তার মনে গর্ব করার মতো বিষয় আছে। কেননা স্বামীর অসুস্থতার সময় সে-ও লুকিয়ে টাকা ধার করেছে; স্বামীর প্রাণ বাঁচানোই তার গর্ব। কিন্তু এই গর্বই তাকে খর্ব করে। বিয়ের প্রায় পরপরই ভয়ানকভাবে অসুস্থ স্বামীর জীবনাশঙ্কা দেখা দিলে অনন্যোপায় ও বিভ্রান্ত নোরা ক্রগাস্টাসের কাছ থেকে টাকা ধার করেছিল এবং বিগত আট বছর ধরে সে তা শোধ দিয়ে আসছে। আপাত চপল, বেহিসাবি নোরার মধ্যে একজন শক্ত ও পরিপক্ক নারী আছে সে ইঙ্গিতও আমরা পেয়ে যাই একেবারে প্রথম দৃশ্যে।
দ্বিতীয়াঙ্কে আমরা নোরাকে আরও পরিণত নারী রূপে চিনি। বিশেষ করে ড. রেঙ্ক ও ক্রগাস্টাসের মুখোমুখি আমরা যে নোরাকে দেখি তা কোনোক্রমেই প্রথম অঙ্কের সেই চপল কাঠবিড়ালী বা ছোট্ট গানের পাখি নয়। মৃত্যুপথযাত্রী ড. রেঙ্কের প্রেমাবেদনের জবাবে নোরার সংযত-সহানুভূতিশীল আচরণ এবং ক্রগাস্টাসের হুমকির মুখোমুখি নোরার নির্ভীক আচরণ—এই দুই বৈপরীত্য নোরা চরিত্রকে আরও উজ্জ্বল করে। প্রথমাঙ্কে নোরা গর্ব করেছিল সে স্বামীর জীবন বাঁচিয়েছে। দ্বিতীয় অঙ্কে নোরা লিন্ডাকে জানায় যে, ক্রগাস্টাসের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিল, বর্তমানে ক্রগাস্টাস জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত; একমাত্র নোরার স্বামীই ক্রগাস্টাসকে রক্ষা করতে পারে। ক্রগাস্টাস হুমকি দেয় যে, ঋণপত্রের দলিলে নোরার বাবার স্বাক্ষরের নিচে যে তারিখ আছে তা তার বাবার মৃত্যুর তিন দিন পরের অর্থাত্ স্বাক্ষরটি জাল। কাজেই নোরা যদি ক্রগাস্টাসকে সাহায্য না করে তাহলে তবে সে সব ফাঁস করে দেবে।
স্বামীকে না-জানিয়ে টাকা ধার করা, মৃত পিতার স্বাক্ষর জাল করার পেছনে নোরার ভালোবাসা প্রকাশিত, কিন্তু এতে তার অদূরদর্শিতাও প্রমাণিত। এ ক্ষেত্রে শাশ্বত নারীর আবেগই তার প্রভাবক ছিল।
নোরার চরিত্রকে ব্যক্তি হিসেবে ঝলসে উঠতে দেখা যায় তৃতীয় অঙ্কে অর্থাত্ নাটকের শেষে। ইতিমধ্যে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সবকিছু স্বামীকে খুলে বলবে। কিন্তু স্বামী তাকে শুরুতেই ভুল বোঝে। অবশেষে স্বামীর ভালোবাসায় সে পুনর্বাসিত হলেও ইতিমধ্যে তাদের সম্পর্কের ফাঁক বা ফাটলটি ধরা পড়ে যায়। এই পর্যায়ে নোরার সংলাপেই নারী ব্যক্তিত্বের প্রকাশ দেখা যায়। নোরা বলে, ‘বসো, এবার আমারও কিছু বলার আছে। আশ্চর্য হলেও সত্য, আট বছরের বিবাহিত জীবনে এই প্রথম আমরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনায় বসেছি। আজ পর্যন্ত তুমি আমাকে বুঝতে চাওনি। আমি ছিলাম তোমার সংসারের খেলার পুতুল, যেমন আমি ছিলাম বাবার সংসারের খেলার পুতুল। তুমি আমাকে ব্যক্তি হিসেবে ভালোবাসনি। কেবল ভালোবাসার খেলায় মেতেছ। কিন্তু আমি একজন মানুষ, অন্তত আমি তা-ই হতে চাই।’ সে আরও বলে, ‘তোমার সমস্ত সহূদয়তার কথা আমার মনে থাকবে হেলমার। কিন্তু এটাও কষ্টের মধ্যে দিয়ে জেনেছি যে, আমাদের মধ্যে ভালোবাসা নেই। তাই, আমি তোমায় ছেড়ে চলে যাচ্ছি টোরভাল্ড।’ —এই কয়েকটি সংলাপ দিয়ে নোরা পূর্ণ নারীতে পরিণত হয়, পূর্ণ মানুষে বিকশিত হয়, স্বতন্ত্র সত্তা খুঁজে পায়। আইন, ধর্ম, নৈতিকথা, প্রথা, সমাজ—সবকিছুর ঊর্ধ্বে ব্যক্তি নেরা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে।
নোরা এই পুতুলের সংসারে নানা ভূমিকায় অভিনয় করে গেছে। স্বামী হেলমার টোরভাল্ডের কাছে সে ‘ছোট্ট পাখি’। ছেলেমেয়ের কাছে সে নিজেও শিশু, তাদের খেলার সঙ্গী। ড. রেঙ্কের কাছে সে মোহময়ী, মধুর সঙ্গিনী। মিসেস লেন্ডের সামনে সে দায়িত্ববোধসম্পন্ন গর্বিত স্ত্রী। এইভাবে একই নোরা যেন পুরো নাটকে নানা চরিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছে। কখনো তাকে চপল শিশু মনে হয়, কখনো সুগৃহিণী, কখনো সে কারো কাঙ্ক্ষিতা, প্রেয়সী, কখনো মা। নাটকের অন্যান্য চরিত্রের সাথে মিলিয়ে সেও যেন চরিত্র বারবার বদলে ফেলে। জলের মতোই সে কেবল পাত্র অনুযায়ী বদল হয়। কিন্তু শেষ দৃশ্যে মা নয়, প্রেয়সী নয়, কন্যা নয়—এবার সে নারী, সর্বোপরি মানুষ। মুহূর্তেই সে সব খোলস পাল্টে একক নারীসত্তায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। শেষ দৃশ্যে পোশাক পরিবর্তন করে এসে সে বলে, ‘Yes, Torvald, I’ve changed’ এই পোশাক পরিবর্তন শুধু তার বাহ্যিক আবরণের বদল নয়। পোশাকি পরিবর্তন নয়, সে বদলে ফেলেছে নিজেকেও। এতদিনের পুতুলখেলা ফেলে সে এখন আত্মোপলব্ধিতে সক্ষম। নারী ব্যক্তিত্বের এই উন্মেষ সংসারের সাজানো উপকরণের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ নোরাকে নারীমুক্তির প্রতীক করে তোলে। যে নোরা তার কন্যার জন্য পুতুল কিনে আনে, পুত্রের জন্য তরবারি ও ঘোড়া, সেই নোরাই এবার পুরুষশাসিত সমাজের বিরুদ্ধে, আইন করে সাজানো মিথ্যে দাম্পত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। দীর্ঘ আট বছরের দাম্পত্য-জীবনে সে এই প্রথম এবং শেষবারের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসে। এতদিন পর সে তার বিবাহিত জীবনের প্রতি নতুন পরিপ্রেক্ষিতে তাকায়। সে বুঝতে পারে, তাদের এই গৃহ খেলাঘর ছাড়া আর কিছুই নয়, যেখানে দীর্ঘ আট বছরে সে একটিও গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেনি।
নোরা বুঝতে পারে, তার নিজের পায়ে দাঁড়াবার সময় এসেছে। তাই এই সাজানো গোছানো মিথ্যে সংসার ছেড়ে সে বাইরের অ-নিরাপদ পৃথিবীতে পা বাড়ায়। যাবার আগে সে বিবাহের আংটিখানাও রেখে যায়। সে আর হেলমারকে ভালোবাসতে পারে না। কেননা, তার বিশ্বাস ভেঙে গেছে। এমনকি কোনো দৈবেও তার বিশ্বাস নেই। এক কাপড়ে সে ত্যাগ করে তার নিরাপদ আশ্রয়। নোরার বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি হয়তো দুর্বল, হয়তো যথেষ্ট পূর্ব-প্রস্তুতি ছাড়াই সে সব ছেড়ে বেরিয়ে আসে—তবু সে যুদ্ধটা ঘোষণা করে। তার একান্ত গৃহকোণ ছেড়ে এবার সে মুখোমুখি হয় বাইরের অনিশ্চিত পৃথিবীর।
পৃথিবীর নাট্য-ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী তার নিজের সাজানো সংসার ছেড়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়ায় স্বেচ্ছায়, সচেতনভাবে। পেছনে তার নিজ হাতে বন্ধ করা নিজের ঘরের দরজা আর সামনে তার অচেনা অবাধ পৃথিবী। তবু তার আত্মোপলব্ধি নারী ব্যক্তিত্বের উন্মেষ, পুরুষশোষিত সমাজের বিরুদ্ধে তার সংঘর্ষ, তাকে, ‘নোরা’কে আলাদা মানুষ হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করে। নোরা হয়ে ওঠে নারীমুক্তির বিশ্বপ্রতীক।